ম্যুভি রিভিউ- "দ্য স্পীড"

অনেকদিন পর বলাকায় গেলাম বাঙলা সিনেমা অনন্ত জলীল অভিনিত ম্যুভি "দ্য স্পীড" দেখতে। সিনেমা শুরুর আগে পর্দা সরে গেল সিনেমা হলের এবং স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় সংগীত মিউজিকে পরিবেশন । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় ৩০% দর্শক সে সময় বসা থেকে উঠার নাম পর্যন্ত করেনি এই কয়েক মিনিট দাড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শণ করতে। সিনেমার শুরুই হলো বেশ দারুন সাউন্ডের ইফেক্ট দিয়ে। "দ্য স্পীড" নামটিকে সার্থক করতেই হয়তো।

১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসের কোন একদিন

মানুষের জীবনে বোধ সঞ্চারের এক নির্ভেজাল উপাদানের নাম কবিতা। কবিতা কখনো মানুষের মনকে রাঙিয়ে দেয়, কখনো বদনার কালো রঙ ঢেলে উপলব্ধিগুলোকে সতেজ করে তোলে; জীবন দর্শনের পথকে করে প্রশস্ত।

নারী-পুরুষ নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলি

'জেন্ডার' শব্দটি মুলত নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝায়, বোঝায় নারী-পুরুষকে নিয়ে বৈষম্যহীণ সমাজের, রাষ্ট্রের কথা। সংস্কৃতি ও সমাজ নারী ও পুরুষ সম্পর্কে যে সব দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে, ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতে শেখায়, কিংবা ভুমিকা পালন করতে বলে, সেসবই হচ্ছে জেন্ডার।

সৌদি নারী...অতঃপর রোকেয়া

যদি আজ থেকে প্রায় একশ বছর পেছনে তাকাই বেগম রোকেয়ার (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন১৮৮০-১৯৩২) জীবনে যিনি সৌদি নারীদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাননি কিন্তু তার দেখানো আলোতে এখনও আমরা পথ দেখি।

নারী....আর কতোকাল রবে শুধুই অর্কিড হয়ে!

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা হচ্ছে নারী হবে নরম-কোমল, সর্বংসহা (মাতা), মনোরঞ্জনকারিনী (বধূ)। তারা থাকবে অন্দরমহলে। আর তাই প্রবাদে শোনা যায়... 'ঝি নষ্ট হয় হাঁটে, বউ নষ্ট হয় ঘাটে'।....অর্থাৎ ঝি কে হাঁটে-বাজারে-মার্কেটে পাঠানো যাবে না আর বউকে পুকুর ঘাটে পাঠানো যাবে না (যদিও গ্রাম এলাকায় পরিবারের পানির যোগান দাতা সাধারণত নারীই)।

বই চিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বই চিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

♣বই প্রকাশের আদ্যোপান্ত♣





সুপরিচিত মাধ্যমে নিজের লেখাটি দেখতে সাধারণত সকল লেখকেরই কাম্য হতে পারে । আর সেই লেখাগুলি বই আকারে প্রকাশিত হলে তা লেখকের লেখার উৎসাহ বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ।

♣সহব্লগারদের যে সব বই পড়লাম♣

ভার্চুয়ালি নিজের লেখাগুলোর উপস্থাপন, মূল্যায়ন একভাবে হলেও প্রিন্ট ভার্সনে প্রকাশিত কাগুজে বইয়ের গুরুত্বই আলাদা ।একজন লেখকের নিজের সৃষ্টির পরিপূর্ণ আনন্দ পাওয়া সম্ভব প্রকাশিত বইয়ে ।

২০১৪ বইমেলা থেকে বেশ কিছু বই কিনেছি । দু'টি বই সৌজন্য সংখ্যা হিসেবেও পেয়েছি। তার থেকে কিছু বই নিয়ে খুবই অল্পকথায় কিছু বলার চেষ্টায় এই পোস্ট ।

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৪

বই রিভিউ: মোহাম্মদ ইসহাক খান-এর "অদ্ভুত অবসর"

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে তরুণ গল্পকারদের মধ্যে ছোটগল্পে মোহাম্মদ ইসহাক খান নির্দ্বিধায় নিজের জায়গা দখল করে নিবেন এ বেশ জোর দিয়েই বলা যায় । বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়ণরত তরুণ এই লেখক গল্প, অনুগল্প, কবিতা লিখলেও লেখালেখির প্রধান ক্ষেত্র ছোটগল্প। রচিত ছোটগল্পের সংখ্যা ৫২৯ টি (২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী) । সহজ, সরল, প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপনা এবং গল্পের প্লট, চরিত্র, ঘটনা, ভাবনা ইত্যাদিতে ক্রমাগত বৈচিত্র্য সৃষ্টির চেষ্টা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাধারণ আটপৌরে স্থান থেকেই তাঁর গল্প মানুষের এবং জীবনের সাদাসিধে গল্প।

 বই নিয়ে কিছু কথা
♦ প্রকাশক এ.বি.এম হেলালের আন্তরিকতার ছোঁয়া রয়েছে প্রকাশনাটিতে।


♦ প্রচ্ছদকার মোস্তাফিজ কারিগর বইয়ের নামকরণের সাথে মিল রেখে দৃষ্টিনন্দন একটি প্রচ্ছদ উপহার দিয়েছেন।

♦ বোর্ড বাঁধাই, পোস্তানী সহযোগে আট ফর্মার বইয়ের বাজারমূল্য ২০০ থেকে ২৪০ টাকা হতে পারে । সেক্ষেত্রে বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে ২০০টাকা পাঠকের জন্যে সহজলভ্য হয়েছে। 

♦ শব্দচয়ণে লেখক যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন । তবে বর্তমান সময়ে ইংরেজীর বদলে ইংরেজি এবং ইংরেজি মাসের নামগুলোতে দীর্ঘ ইকার এর ক্ষেত্রে হ্রস্ব ইকার চালু হচ্ছে । আশা করা যায় ভবিষ্যতে লেখক নিজেও নিজের লেখায় এই বর্তমান ধরণটিকে চালু করবেন।

♦ আকর্ষণীয় গল্পগুলোতে কোন সুরসুরি মূলক ভাবাবেগের প্রকাশ ঘটেনি এবং যথেষ্ট শালীন, রুচিশীল শব্দচয়ন যে কোন বয়সী পাঠককেই পড়তে আগ্রহী করে তুলবে।

বইয়ের সংকলিত গল্প গুলো থেকে অল্প কয়েকটা সম্পর্কে নিজের কিছু মতামত এবং পছন্দের কিছু লাইন তুলে ধরলাম ।

২১ টি ছোটগল্প নিয়ে এক অসাধারণ গল্প সংকলন "অদ্ভুত অবসর" ।

"A person who demands perfection in his friends is bound to be friendless."
"...বন্ধুত্ব, সম্পর্ক বিষয়গুলোকে অর্থহীন মনে হয়..."
একা গল্পে এভাবেই একা মানুষের অসহনীয়, অস্বাভাবিক ভাবনা ধরা পড়েছে লেখকের লেখায় ।


দাবাড়ু লেখায় দাবার প্রতি লেখকের আধিপত্যের প্রভাব রয়েছে নিখুঁতভাবে । কখনো বুয়েটের দাবা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মোহাম্মদ ইসহাক খানের নাম শুনলে অবাক হবো না নিশ্চিত ।
বুয়েটের চার দেয়ালেই লেখক নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেন নি । আইন/সম্পর্ক নিয়ে লেখা তাঁর ফাঁসি, ডাক্তারী বিদ্যা নিয়ে লেখা দারুন গল্প  স্মৃতি ।

উপহার পিতা-পুত্রের সম্পর্ক, প্রত্যাশা নিয়ে ছুঁয়ে যাওয়া একটি লেখা ।

"বিয়ে মানে হলো জীবনের পূর্ণতা" আধুনিক পদ্ধতিতে জীবন সঙ্গিনী অনুসন্ধান-এর মেসেজটি দারুণ লেগেছে।
আমরা দশটা বেছে বিয়ের মতো সম্পর্কের কল্পনা করলেও বাস্তবতা দিয়ে অনেক সময়ই নিজেদের যাচাই করে দেখি না ।

মা'কে খুঁজছি তে "খুশির দিনটিতে কারো উপর রাগ পুষে রাখবেন না" কথাটা পড়ে মনে হয়েছে সবাই যদি এমন হতো কতো ভালোই না হতো ।

জনৈকা মাতাতে একজন পুরুষ হয়ে কথক হিসেবে গল্পকার নারী চরিত্র চিত্রণের দুঃসাহসী রূপটি অসাধারণভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন ।
"স্বামীর কাছে প্রতারিত হবার ব্যাপারটি মেয়েদের খুব আঘাত করে"

"... ... রাগারাগি করতে সাহস লাগে, পায়ের নিচে শক্ত মাটি লাগে"

"দারিদ্র শুধু কষ্ট দেয় না মনটাকে ছোটকরে দেয়"

"সব সুখ একপেশে দুঃখ বৈচিত্রময়"এই সার্থক ছোট গল্পটি পড়তে পড়তে পাঠকের চোখ সহসাই ভিজে উঠবে ।

তৃতীয় ব্যক্তি
তে "নিজেকে প্রকাশ করতে না পারার কষ্ট বড় ভয়ংকর" খুব বাস্তব কথাটাই লেখক তার গল্পের পাত্রের মুখ দিয়ে বের করে এনেছেন।



মৃত মানুষ হয়ে উপস্থাপন করা বিস্মরণ পড়া শেষে বুকের ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে । প্রিয়/অপ্রিয়জনের মাঝে আমরা বেঁচে থাকতে চাই । এই দীর্ঘশ্বাস যেন সেকথাই জানান দেয় ।

ফেসবুক "...মানুষগুলোর অনেকে মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ আবার 'আসল নিজেকে' চেনাবার প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। হয়তো নিজেকে লুকিয়ে ফেলা সত্যিই সহজ হয়ে গেছে। "

"খোদা না করুন, আমাকে যেন কেউ বুঝে না ফেলে"-মীর্জা গালিব

মারফি'স ল' মোহাম্মদ ইসহাক খানের এক কথায় অসাধারণ এক লেখা । গল্পকারের ভক্ত হওয়ার জন্যে বোধ করি এই এক লেখাই যথেষ্ট । যদিও তার নিয়মিত পাঠকগণ এমন অসাধারণ অনেক লেখারই সন্ধান পেয়ে থাকেন ।

গল্পটি আগে পড়েছিলাম, সত্যি বলতে কি বুকের ভেতর বাস করা এক অবুঝ কিশোরী এই গল্পটির নায়কের প্রেমে পড়েগিয়েছিল তখন থেকেই যখন মুগ্ধ পাঠক এই আমি নিরস প্রেমের গল্পটি পড়েছিলাম । বইটি থেকে বেশ কিছু লেখা পড়ার পর এই লেখাটিই খুঁজতে শুরু করেই পেয়েগেলাম আর মনে মনে গল্পকারকে ধন্যবাদ দিলাম উনার গল্প সংকলনে এই বিশেষ লেখাটিকে স্থান দেবার জন্যে ।
শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' থেকে কোট করা মহান উদ্বৃত্তি " বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলে দেয় ।"
 আর রয়েছে গল্পকারের নিজস্বতা "প্রেম মিলনে মলিন হয়, বিরহে অমর"।

কে? গল্পটিতে অন্তর্জালের পরিচয়, মিলন, বিরহ সম্পর্কে লেখা এই গল্প পুরোটা শেষ করার আগে ধঅরণা করার সম্ভব নয় এর পরিণতি কী হতে যাচ্ছে । গল্পকারের বিশেষ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় এই লেখাটিতে ।
এই লেখাটির স্বত্ত আমার থাকলে অন্তর্জালের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় বন্ধু 'ডেভিড'কে উৎসর্গ করতাম ।

 ♦ বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম:  অদ্ভুত অবসর
লেখক : ইসহাক খান
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি  ২০১৪

প্রকাশক: এ.বি.এম. হেলাল
রাঁচী গ্রন্থনিকেতন, ৮২ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স,
২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫

ISBN: 987-984-90751-6-5
মূল্য: ২০০ টাকা
প্রাপ্তিস্থান: রাঁচী গ্রন্থনিকেতন, ৮২ কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স,
২৫৩-২৫৪ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫
 

►রকমারীতে "অদ্ভুত অবসর"

►অদ্ভুত অবসর এর ফেসবুক পেজ

শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

বই রিভিউ- রিদা খানের "বন্ধু আমার"


পেশাগত জীবনে  এমবিএ করা University of Phoenix এর Hawaii Campus-এ করপোরেট লিডারশিপ লেকচারার মেধাবী রিদা খান-এর "বন্ধু আমার" শুরুটা খুব সাধারণ এক গল্পের মতো। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা যেভাবে শব্দ প্রয়োগ করি, রিদা খানের গল্পের পাত্র-পাত্রীরা সেভাবেই কথোপকথনে এগিয়ে গেছে। একটা সময় খেয়াল করলাম বইটা অসমাপ্ত রেখে ঘুমাতে যেতে পারছি না।

সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৩

বই প্রকাশ


লেখাকে যারা পেশা হিসেবে নিতে চান তারাতো বটেই লেখা যাদের নেশা তারাও হয়তো কখনো চান তাদের লেখাটিকে প্রিন্টেড আকারে কাগজের পাতায় মুদ্রিত দেখতে । নিজের একটি প্রকাশিত বই একজন লেখকের কাছে তার সন্তানের মতোই আপন ।

বর্তমান সময়গুলোতে ফেসবুক, গুগল প্লাস, নিজস্ব ব্লগ সাইট সহ কমিউনিটি ব্লগগুলোর কল্যাণে মানুষ আগের ডায়েরির পাতায় লেখার বদলে এখন এসব ডিজিটাল ডায়েরি ব্যবহার করে থাকেন নিজেদের লেখালেখির মাধ্যম হিসেবে । তাতে লেখকের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে কাগুজে বই প্রকাশিত কমই হচ্ছে । প্রকাশকরা লগ্নিকৃত অর্থের লোকসানের ভয়ে সাধারণত নতুন লেখকদের বই প্রকাশ করতে ভরসা পাননা খুব একটা । কিন্তু তারপরও নিজের একটি বই... এতো দরদ দিয়ে লেখাগুলি বইয়ের পাতায় ছাপানো দেখতে, সেই কাগজের গন্ধ নেবার আনন্দই আলাদা । যাদের বই প্রকাশিত হয়েছে তারা এটা ভালো বুঝবেন ।

কিন্তু বর্তমান সময়ে বই প্রকাশের খরচের কথা ভেবে অনেক প্রকাশকই নতুন লেখকদের লেখা ছাপানোর রিস্ক নিতে চাননা । কিন্তু লেখক যদি নিজ অর্থে বই প্রকাশ করতে চান সেক্ষেত্রে প্রকাশকরা নবীন লেখকদের বই প্রকাশ করে থাকেন ।
সেই ভাবনা থেকেই সামনের জাতীয় গ্রন্থমেলার কথা মাথায় রেখে বই প্রকাশের কিছু তথ্য সহব্লগারদের সামনে হাজির করবার চেষ্টা করলাম । যারা বই প্রকাশে আগ্রহী তাদের যদি কোন কাজে লাগে তবে কৃতার্থ হবো ।

►ISBN (International Standard Book Number):
বই প্রকাশের সাথে লেখকের বইটির একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বই নম্বর দেবার কাজটি লেখক নিজে দায়িত্ব নিয়ে করাতে পারেন বা প্রকাশকও করিয়ে নিতে পারেন ।

ISBN এর জন্যে বর্তমানে পান্ডুলিপির এক কপি সহ আবেদন পত্র জমা দিতে হবে আগারগাঁও এ অবস্থিত জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের নিচতলার অফিসে অফিসচলাকালীন সময়ে ।

ISBNএর নিজস্ব ওয়েবসাইট
http://www.isbn.org/

উইকিপিডিয়ায় ISBN


►© কপি রাইট

একটি বই প্রকাশ করলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না । বইটির লেখার স্বত্ত্ব যেন লেখক বা লেখকের অনুমতিক্রমে প্রকাশকের থাকে সেজন্যে কপিরাইট আইনের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করা উচিত যেন কেউ লেখা চুরি করে পার পেয়ে যেতে না পারে ।

■নির্ধারিত সময়ে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনের জন্যে :
●আবেদন পত্র – ৩কপি (নির্ধারিত)- অনলাইন অথবা অফিসে জমা দিতে হবে ।
●ট্রেজারি চালান (টাকা জমা)ফি – ১০০০/= প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে
●অঙ্গীকারনামা-৩০০ টাকা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প (মৌলিক কর্মের ঘোষণাপত্র)
●পান্ডুলিপি, সাহিত্যকর্ম, সিডি, ক্যাসেট ইত্যাদি…কর্মের ২ কপি করে জমা দিতে হবে
●ট্রেজারি চালান কোড নং ১-৩৪৩৭-০০০০-১৮৪১
●চারুকর্মের ক্ষেত্রে কর্মের ৩ কপি জমা
●কর্ম হস্তান্তর হলে হস্তান্তরের দলিল ৩০০/= ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প
●শিল্পকর্ম জমা দিতে হবে –দেলোয়ার জামিল
●সাহিত্য, সফটওয়্যার, নাটক, সিনেমা, পান্ডুলিপি জমা দিতে হবে –খালেদ হোসেন চৌধুরী



►বইয়ের খরচাপাতি

■জাতীয় সাহিত্য প্রকাশন-এর পুরোধা জনাব মোরশেদ আলম-এর মতে-
১০ ফর্মার একটি বই প্রকাশের আনুমানিক খরচ :
●কভার পেপার (দুই রকম আর্টপেপার
অফসেট-১২০ গ্রাম বা ১০০গ্রাম হতে পারে)- ২৫০০/=
●কভার ডিজাইন পজেটিভ সহ চার কালার -৩০০০/=
●কভার প্লেট ৪টি – ৮০০/=
●কভার ছাপা - ২০০০/=
●কভার লেমিনেশন – ৭৫০০/=
●বইয়ের কাগজ – ১১০০০/=
●বইয়ের ছাপা – ১০*৪০০=৪০০০/=
●মূল বইয়ের প্লেট একপোজ সহ ১০টা
(একপোজ= ট্রেসিং প্লেট) -৪৪০০/=
● বই বাঁধাই – ১০,০০০/=
● বই কম্পোজ ১০ ফর্মা
(ট্রেসিং সহ) – ১০*৬০০=৬০০০/=
●প্রুফ রিডিং – ৩০০০/=
১০ ফর্মায় প্রতিবারে প্রুফ রিডিং ১০০০/= করে তিনবারে ৩০০০/=টাকা

■জলছবি বাতায়ন প্রকাশনার সঞ্চালক জহিরুল ইসলামের বর্ণনা মতে :
১.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ১ (৮ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : চার কালার
বাঁধাই : স্ট্যাপলার
কভার পেপার : ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওয়ান সাইড গ্লোসি বোর্ড
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ২১,০০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

২.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ১ (৮ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : স্ট্যাপলার
কভার পেপার : ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওয়ান সাইড গ্লোসি বোর্ড
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ১৬,০০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

৩.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ২ (১৬ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : চার কালার
বাঁধাই : স্ট্যাপলার
কভার পেপার : ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওয়ান সাইড গ্লোসি বোর্ড
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ৩১,৫০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

৪.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ২ (১৬ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : স্ট্যাপলার
কভার পেপার : ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওয়ান সাইড গ্লোসি বোর্ড
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ২৩,০০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

৫.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৩ (২৪ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : চার কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ৪৭,৫০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

৬.
সাইজ : ৭.২৫×৯.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৪ (৩২ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : চার কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে
সংখ্যা : ৫০০ কপি
মোট খরচ : ৫৭,০০০ টাকা
যে ধরনের বই হতে পারে : ছোটদের গল্প/ছড়া।

৭.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৩ (৪৮ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ১৯,৫০০ টাকা। ৫০০ কপি ২৫,৫০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা।

৮.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৪ (৬৪ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ২২,৫০০ টাকা। ৫০০ কপি ২৮,৫০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

৯.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৫ (৮০ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ২৫,০০০ টাকা। ৫০০ কপি ৩১,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১০.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৬ (৯৬ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ২৮,০০০ টাকা। ৫০০ কপি ৩৪,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১১.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৭ (১১২ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ৩০,৫০০ টাকা। ৫০০ কপি ৩৭,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১২.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ৮ (১২৮ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ৩৩,০০০ টাকা। ৫০০ কপি ৪০,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১৩.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ১০ (১৬০ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ৩৬,০০০ টাকা। ৫০০ কপি ৪৩,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১৪.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি (পেপারব্যাক)
ফর্মা সংখ্যা : ১০ (১৬০ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : পেপারব্যাক। তবে ফ্ল্যাপ থাকবে।
কভার পেপার : ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওয়ান সাইড গ্লোসি বোর্ড/আর্ট কার্ড
অলঙ্করণ : কয়েকটি স্কেচ হবে
মোট খরচ : ৩০০ কপি ৩৬,০০০ টাকা। ৫০০ কপি ৪৩,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : প্রবন্ধ/উপন্যাস।

১৫.
সাইজ : ৫.৫×৮.৫ ইঞ্চি
ফর্মা সংখ্যা : ১৫ (১৬০ পৃষ্ঠা)
ভেতরের কাগজ : ৮০ গ্রাম দেশী
ভেতরের ছাপা : এক কালার
বাঁধাই : বোর্ড বাঁধাই
কভার পেপার : ১২০ গ্রাম আর্ট পেপার।
অলঙ্করণ : হবে না
মোট খরচ : ৩০০ কপি ৪৮,৫০০ টাকা। ৫০০ কপি ৫৬,০০০ টাকা।
যে ধরনের বই হতে পারে : কবিতা/গল্প/প্রবন্ধ/উপন্যাস।




কৃতজ্ঞতা:
জনাব নাসির আহমেদ কাবুল
জনাব মোরশেদ আলম
জনাব খালিদ হোসেন চৌধুরী


শনিবার, ৮ জুন, ২০১৩

বইয়ের খোঁজে

অনেকেই অনেক সময় ঠিক কোথায় কোন ধরনের বই পাওয়া যাবে এটা জানা না থাকার কারণে প্রয়োজনীয় বইটি খুজেঁ পেতে অনে সময় ব্যয় করে ফেলেন। কেউ কেউ কখনো কখনো ব্লগে দুই তিন লাইনের পোস্ট দিয়ে থাকেন যে, কোথায় খুজেঁ পাবেন তার আকাঙ্খিত বইটি। এটা তেমনই একটা বইয়ের প্রাপ্তি স্থান যেখানে খুবই সুলভমূল্যে বই পাওয়া যায়। খুঁজলে আপনার কাজে লেগে যেতে পারে এমন বইও পেয়ে যেতে পারেন।
এই স্থান থেকে বই কেনার একটা সমস্যা হলো কখনো কখনো বইয়ের পাতা মিসিং থাকে। সেক্ষেত্রে বই কেনার সময় একটু সময় নিয়ে হলেও পৃষ্ঠাগুলি উল্টেপাল্টে দেখা দরকার যে তা ঠিকমতো আছে কি না।

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

"মরদানা" (অবরোধ-বাসিনী:রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন)

এক
স্থানঃ রংপুর জিলা, পায়রা বন্দ গ্রামের জমিদার বাড়ী
সময়ঃ দুপুর ১টা-২টা
[নামাযীরা নামাযের উদ্দেশ্য ওযু করে ফেলেছে। সাহেবজাদী উম্মি ওজু করছে, আলতার মা বদনা হাতে উম্মিকে ওজুর জন্যে পানি ঢেলে দিচ্ছে।হঠাৎ এক কাবুলী মহিলাকে দেখে আলতার মার হাত হতে বদনা পড়ে গেল এবং সে চিৎকার করতে লাগলো।]

আলতার মাঃ আউ আউ! মরদটা কেন আইল!
কাবুলী বেগমঃ হেঁ মরদানা! হাম মরদানা হায়

[উম্মি কাবুলী বেগমের কথা শুনে হাঁপাতে হাঁপাতে ও কাঁপতে কাঁপতে তাঁর চাচী আম্মার কাছে গেলেন]

উম্মিঃ চাচী আম্মা! পায়জামা পরা একটা মেয়ে মানুষ এসেছে
চাচী আম্মাঃ [ব্যস্তভাবে] সে তোমাকে দেখেছে? 
উম্মিঃ [কাঁদো কাঁদো ভাবে] হাঁ!

[অন্য মেয়েরা নামায ভেঙ্গে ব্যস্তভাবে দরজার কপাট দিল]


বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩

প্রিন্সেস, জীন পি স্যাসন; Princess, Jean P Sasson,


১৯৮৩ সালে লেখক জিন পি স্যাসনের সাথে পরিচিত হয় এক সৌদি নারীর যিনি একজন শাহজাদী । তার জীবন এবং লেখকের জানা মতে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এতোদিন ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবে পবিত্র ভুমি হিসেবে যেই ভুমিকে জেনে এসেছি, সেখানে এমন ভয়ংকর, বিভৎস, বিকৃত আচরণের ঘটনার সন্ধান পেয়ে সত্যিই প্রচন্ড ভাবে মর্মাহত হচ্ছি। ঘৃনা জন্মে যাচ্ছে পুরুষদের উপর। এতোদিন জানতাম এসব ঘটনা পাশ্চাত্যের দেশ গুলোতে ঘটে, এরপর দেখি আমাদের দেশেও ঘটছে। "প্রিন্সেস" বইটি থেকে সৌদী আরবের স্থানীয় মানুষগুলোর অন্ধকারের চেহারা দেখে মনে হলো আর সবদেশকে ছাড়িয়ে গেছে বর্বরতায়। এতোযুগ পরেও! অনুবাদটি পড়ে সত্যিই শিউড়ে উঠেছি। আমাদের দেশে ধর্ষনে মেয়েদের পোষাককে দোষ দেয়া হয় কোন কোন ক্ষেত্রে, কিন্তু সৌদি আরবের মতো জায়গাকে আমরা পূণ্যভুমি মনে করি, তেমনি একটি জায়গায় কি বিভৎস, হিংস্র, দানবীয় আচরণ করা হয়, মেয়েদেরকে দমন করতে । এখানকার পুরুষদের যৌনকামনার বিভৎস রূপটি প্রিন্সেস বইটির মাধ্যমে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক আরব শাহজাদীর মুক্তি কামী মানসিকতা নিয়ে লিখা ডায়েরি থেকে জিন পি স্যাসন তুলে এনেছেন এই ভয়াবহ সত্য কাহিনী।


বই নিয়ে কিছু কথা
■ মূল বইয়ের প্রচ্ছদটি বেশ জমকালো সেই তুলনায় অনুবাদটির প্রচ্ছদটি সাদাসিধা হলেও বেশ আকর্ষণীয় ।

■ বোর্ড বাঁধাই করা ১৩ ফর্মার বইটির বাজার মূল্য ৩২৫ থেকে ৩৯০ টাকা হতে পারতো, সেক্ষেত্রে বইটির মূল্য ক্রেতার নাগালের মধ্যে রাখাটাকে সাধুবাদ দিচ্ছি অবশ্য ২০০১ সালে ফর্মা প্রতি কতো করে রাখা হতো আমি জানি না ।

■ প্রকাশক মূল লেখক জিন পি স্যাসন ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পরিচয় তুলে ধরতে পারতেন কভার পেজ-এ ।

■ ১২ ফন্টের ছাপার অক্ষর গুলো সাধারন বয়সী পাঠকদের পাঠে মনোযোগ ধরে রাখার জন্যে যথেষ্ট ।

■ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনুদিত বইটির ঝরঝরে অনুবাদের প্রশংসা করতেই হবে । পাঠের কোথাওই মনে হয়নি বইটি অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে ।

■ বানানে যথেষ্ট যত্নের ছোঁয়া রয়েছে যা একজন পাঠককে পাঠে স্বস্তি দিতে পারে বইটি ।

■ বইটির বিভিন্ন অংশ থেকে কিছু লাইন এখানে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরলাম ।
►আমার জন্মভূমিতে পুরুষাঙ্গ বিহীন মানুষের কোন গুরুত্ব নেই ।

► সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠে ব্যক্তির বিকাশের সাথে ।

► আমাদের সমাজে নারীর হীন অবস্থানের কারণে ইসলামি বিধান ও রীতিকে দোষারোপ করা ভুল ।... মহানবী মোহাম্মদ (সাঃ) শিক্ষা দিয়েছেন নারীর প্রতি সদয় হতে এবং সুবিচার করতে ।

►পুরুষের মর্যাদার বিকাশ ঘটে নারীর ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগের মধ্য দিয়ে । সেজন্যে তাকে অবশ্যই তার নারীদের ওপর যৌন প্রভুত্ব ও শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখতে হবে...

► নারীর উপর সর্বময় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রেমের কোন সম্পর্ক জড়িত নয় ।এ নিয়ন্ত্রণ আরপ করা হয় পুরুষের মর্যাদাহানির ভয় থেকে ।

► শৈশব থেকে একটি ছেলে শিশুকে শিখানো হয় যে, নারীদের গুরুত্ব খুবই সামান্য, তারা রয়েছে আরাম ও সুবিধার জন্যে ।...তাকে অস্থাবর সম্পত্তি হিসাবেই বিবেচনা করে, অংশীদার হিসেবে নয় ।

►নারীর সাথে ক্রীতদাসের মতো বা সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে পুরুষেরা নিজেদের অসুখী করার পাশাপাশি যেসব নারীর ওপর তারা প্রভুত্ব করছে তাদেরকে অসুখী রেখে উভয়ের জন্যেই প্রেম ও সত্যিকার অংশীদারে পরিণত হওয়াকে অসম্ভব করে তুলেছে ।

►নারীরা কঠোরতার সাথে আপোষ করে তাদের মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকে ।

►আমি একজন নারী, যাকে পুরুষ বিবেচনা করে শৃঙ্খলিত ক্রীতদাসের মতো ।

►পৃথিবীতে এতো দরিদ্রের বসবাস, আর আমরা এতো অপচয় করছি।

►বিজয় জন্ম দেয় ঘৃণার, কারণ পরাজিদরা অসুখী থাকে... (গৌতম বুদ্ধ)

►পাথি ও জীবজন্তু আমার বোনের চাইতে অনেক স্বাধীন ।

►আমার মা শাবককে রক্ষার জন্যে ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো ছিলেন । তার সাহসের অহংকারে আমার হৃৎপিন্ড বিস্ফারিত হওয়ার মতো হয়েছিল ।

►সৌদি আরবে সৌন্দর্য নারীর বিরাট পণ্য ।

►আমার দেশে মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ নিষেধ । যদিও মহানবী (সাঃ) মসজিদে মহিলাদের নামাজ পড়তে নিষেধ করেননি ।
► একটি পাপ যখন গুরুতর হয়, তখন আরেকটি পাপের ঘটনা চাপা পড়ে যায় ।

►ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এবং ফ্যাশন সচেতনতার কারণে মহিলারা পোশাকের হাজারো ধাঁচের মধ্যেও সৃজনশীরতা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে ।

►একটি বালিকার প্রবেশ আরব পুরুষেরা লক্ষ্য করে না, কিন্তু যখনই সে বোরখা পরে মুখ ঢেকে বের হয় বহু পুরুষ তার দিকে আগ্রহ ভরে তাকায় । পুরুষেরা নিষিদ্ধ মুখের দর্শন লাভের জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠে । সহসা যৌন গুরুত্ব বেড়ে যায় সেই বালিকার । আমরা, আরব মহিলারা মুখ ঢেকেই আরব পুরুষদের কাছে বিপুলভাবে কাঙ্ক্ষিত সামগ্রিতে পরিণত হই ।

►যেহেতু তার একটি স্বপ্ন আছে এবং সে স্বপ্ন পূরণের উপায়ও আছে, সে জন্যে সে প্রাণ খুলে হাসতে পারে ।

►তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো থেকে সৌদি আরবে যে সব মহিলা কাজ করতে আসে তাদেরকে যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।

►অজ্ঞতার কারণে ধর্মের শিক্ষাকেও তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে ।

►মুসলিম বহির্ভূত যে কোন মহিলাকে তারা বেশ্যা মনে করে ।

►সৌদি আরবে নারী স্বাধীনতার প্রধান প্রতিবন্ধক ধর্মীয় চরমপন্থীরা ।


শাহজাদী লেখককে বলেছিলেন, বিশ্ব যদি আমাদের কান্না শুনতে না পায় তাহলে কিভাবে আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে ?

■ বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মূল: জিন পি স্যাসন
অনুবাদ : আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০০১
প্রকাশক: ঐতিহ্য, ঢাকা
মূল্য: ১৭০ টাকা
ISBN: 984-776-077-2
প্রাপ্তিস্থান: সঠিক জানা নেই, তবে
"মধ্যমা", কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স এর প্রথম তলায়।
এছাড়া নীলক্ষেত পাওয়া যেতে পারে।


বিশেষ কৃতজ্ঞতা : প্রিয় অলস গল্পকার

তোমার তরে...
২.১৯ দুপুর ৯ পৌষ, ১৪১৮
তোমরা কোথায়? বসে আছি আমি একলা টিএসসিতে!
মাল্টিকালার ক্যাম্পাস আর পৌষের এই শীতে।
রং নিয়ে কি খেলবো একটু? সেই ভাল, তা-ই করি!
তখন থেকেই ছেলেরা-মেয়েরা আসছে আর যাচ্ছে
রেখে গেল শুধু কিছু ভাল-লাগা নীল-ওড়না'র মেয়েটা!
আসমানী রং ওড়নায় তার সূর্যের মত কাচঁ
রং ছড়িয়েই চলে গেল সে-ছড়িয়ে গেল আলো
জুইফুল-চুলে মেয়েগুলো যেন হিংসায় চমকালো!
আমি ও কেমন! 'দেখলেই বুঝি ওভাবে তাকিয়ে থাকে?'
পুতুলের ফুল, সূর্যের তাপ ধমক দেয় আমাকে...

কবিতার প্রতিটা লাইনের প্রথম বর্ণটিতেই কবিতার পুরো শিরোনাম রয়েছে ।

ছবি: প্রিন্সেস, ৮ মে ২০১৪

বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১২

"কৌটিলিয়ম অর্থশাস্ত্রম" থেকে পাঠ- ভুমিকা কথন


বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আতেঁল বন্ধুরা যখন কৌটিল্যের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো তখন ওদের মুখ থেকে শুনে শুনেই কৌটিল্যের প্রতি আসক্তি। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠা করে কোলকাতা থেকে প্রকাশিত দুই খন্ডের প্রতিটির দাম ২২৫ টাকা করে। মানে বাংলাদেশী টাকায় কি পরিমাণ আসে তা ভেবেই মুখ কালো করে বইয়ের দোকান থেকে শুধু দেখেই যেতাম।আমার শুভাকাঙ্খী কাছের বন্ধুরা আমার এহেন দূর্বলতার কথা জানতো এবং তারা শেষ পর্যন্ত আমার বিশেষ (সেটি জন্মদিন , নাকি কোন পরীক্ষার ফলাফলে খুশি হয়ে অভিনন্দন জানাতে এই মুহুর্তে মনে নেই)কোন দিনে উপহার দেয়। এমন বই পেয়ে তো আমি মহা খুশি। কিন্তু বেশি খুশি হওয়ার কারণে বই খালি আগলে রাখি, পড়া আর হয় না! একবার শুরু করলাম পড়া , কিন্তু পড়বো কি! এতো কঠিন যে মাথা আউলিয়ে যায়। খালি বইটা হাতে নিয়ে ঘুরি, আর হাতের নাগালে পিসির সামনে রাখি...পড়বো পড়বো বলে কতো যে জপেছি...এবার ঠিক করলাম একটু একটু করে পড়ে পড়ে ব্লগে দিই। সেখানেও আরেক মুশকিল! আতেঁল মার্কা লেখা ব্লগাররা পড়ে না। কারণ তারা নিজেরাই অনেক কিছু জানে, কাজেই আমার এই লেখা তাদের জানার চাহিদা নতুন করে মেটাবে না।
শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম পড়তে আমাকে হবেই...কিভাবে ?! কিভাবে?! কিভাবে?!
নিজের ব্লগ সাইটে প্রকাশ করে। এখানে হিট, কমেন্ট, ভালো লাগা ক্লিকানোর কোন ভেজাল নেই। একেবারে নিজের জন্যে লেখা। অনেকটা প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা মুরগীর মতো। ডিম পারার আগ পর্যন্ত তার অস্থিরতা কমে না।
হাহাহাহাহাহা...এই বই শেষ না করা পর্যন্ত আমারও অস্থিরতা কমবে না। যতো কঠিনই হোক। প্রয়োজনে বেঁচে থাকলে যতো বছর লাগে আমি পড়তেই থাকবো।

কৌটিল্য মহাশয়ের একটি ছবি দেবার বাসনায় গুগলে সার্চ দিয়ে দেখি সামহোয়্যারইন ব্লগে আমারই এক জবাবে কৌটিল্য সাহেবের কথা লেখা! কি আর করা ইংরেজিতে বানান আন্দাজ করে ঢিল ছুঁড়লাম ! সাবাস! গুড়ল মামু তো বেশ কাজের!

"চানক্য" যিনি মূলত "কৌটিল্য" পরিচয়ে ইতিহাস খ্যাত এবং বিষ্ঞু গুপ্ত-ও যার আরেক নাম।প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রকৌশল নিয়ে তার লেখাই  "কৌটিলিয়ম অর্থশাস্ত্রম" নামে পরিচিত।    

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

কিভাবে করবেন বইয়ের রিভিউ



বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শেষ বেলায় একটা কোর্সের এসাইনমেন্টের অপশন ছিল বই রিভিউ। যদিও ম্যাডাম নির্দিষ্ট একটা বইয়ের নাম উল্লেখ করে দিয়েছিলেন। তখন কিছুই জানতাম বই রিভিউ সম্পর্কে। এখনও যে জানি তা কিন্তু নয়। ভাবলাম তখন বইটির রিভিউ হিসেবে যা লিখেছিলাম তাতে একটা বই কিভাবে রিভিউ করা যায় তা নিয়ে সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করি। কারণ এখানে অনেক অভিজ্ঞজন থাকতে পারে এ বিষয়ে। আসলে ভালো করে জানার ইচ্ছে থেকেই এই লেখা। আশা করবো যারা এ বিষয়ে জানেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়ে আমার জানার আগ্রহকে সমৃদ্ধ করবেন।

ভুমিকাঃ
একটি বইয়ের রিভিউ দেখেই একটি বই সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব। যেমন একটি সিনেমার স্যাটায়ার বা রিভিউ দেখে সেই সিনেমা সম্পর্কে আমরা আগে ভাগেই অবগত হতে পারি। বই রিভিউয়ের ক্ষেত্রে বইয়ের শিরোনাম, লেখক, কোথা থেকে প্রকাশিত হলো, প্রকাশক, প্রকাশনার তারিখ, সংস্করণ, পৃষ্ঠা, বিশেষ বৈশিষ্ট্য, মূল্য, ISBN নম্বর এসব উল্লেখ করা প্রয়োজন।

বইয়ের আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের পর্যালোচনাঃ
প্রচ্ছদঃ 
একটি বই যখন হাতে নেয়া হয়, তখন সামগ্রিকভাবে এর প্রচ্ছদটিই প্রথমে চোখে পড়ে। একটি আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ বইটিকে পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে।
আর প্রচ্ছদ থেকেও কখনো কখনো বইয়ের ভেতরের আলোচনা সম্বন্ধে ধারণা লাভ করা সম্ভব।
বইটি কোন বয়সীদের জন্যে তাও অনেক সময় প্রচ্ছদ দেখে বোঝা সম্ভব। এক্ষেত্রে বইটি শিশুদের উপযোগী হলে সেই বইযের প্রচ্ছদে আকর্ষণীয় চিত্র থাকলে শিশুরা তাতে আগ্রহ পাবে বেশি।
কাজেই রিভিউ করার সময় প্রচ্ছদ নিয়ে একটি আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে যেন সেই বই সম্পর্কে পাঠক শুরুতেই একটা ধারনা পেতে পারে।

বাঁধাইঃ
বাঁধাই সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় যে, বাঁধাই দেখেই বইটি সম্পর্কে একটা ধারণা এসে যেতে পারে। এখানে কয়েকটি কারণে বইয়ের বাঁধাইয়ে রকমফের হতে পারে। বইটি সব শ্রেণীর মানুষের হাতে পৌছানোর কথা ভেবে থাকলে বইটির বাঁধাই নিম্ন মানের হতেও পারে। যেমন এনসিটিভির স্কুলের জন্যে প্রণীত পাঠ্য বই গুলো। এগুলো সাধারণতই হয় ন্ম্নিমানের নিউজপ্রিন্ট দ্বারা। এখানে সবার হাতে পৌছানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের অর্থ লিপ্সাও কাজ করে থাকে।
আবার পাঠ্য বইয়ের বাইরে বাজারে আসা বইগুলোতে বিভিন্ন প্রকাশণীর প্রকাশকদের রুচি, বাজেটের উপরও বইয়ের বাঁধাই নির্ভর করে। অনেক সময়ই বাঙলা বাজারের প্রকাশকদের দেখা যায় বারবার বলার পরও খুব উন্নত বাঁধাই দেন না। এখানে দেখা যায় বইয়ের পাশ থেকে কাগজ কেটে সেগুলোকে বাইরে আলাদা করে বিক্রীর প্রবণতা।
কাজেই বাঁধাইও বই রিভিউয়ের একটি অংশ।

বইয়ের আকারঃ
বই রিভিউয়ে বইয়ের আকার নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। কারণ এতে বইটিটর প্রতি কতোটা যত্নশীল ছিল প্রকাশক তা বোঝা যায়। বইটি ছাপানোর ক্ষেত্রে খরচ সাশ্রয়ের জন্যে চর্তুদিকে প্রয়োজনীয় মার্জিন রাখা হয়েছে কি না অর্থাৎ বইটিকে কেটে এর স্বাভাবিক আকার নষ্ট করা হয়েছে কি না তা বিবেচ্য বিষয়।

ছাপার অক্ষরের আকৃতিঃ
বয়স অনুযায়ী পাঠকদের উপযোগী কি না বইয়ের অক্ষর তাও রিভিউয়ের আসা উচিত। সাধারণত ইংরেজিতে টাইমস নিউ রোমানে বা বাংলায় সুতন্নীতে ১২ ফন্ট আসা উচিত। প্রয়োজন বোধে তা কম বেশি হতে পারে। আর রিভিউ করার সময় দেখা উচিত তা প্রয়োজনীয় সাইজের হলো কি না। কারণ ছোটদের বইয়ের ফন্ট ১৪/১৬ এমনকি এর চেয়ে বেশিও হতে পারে । আবার সাধারণ বইগুলিতে যদি ফন্ট সাইজ বেশি দেওয়া হয় তবে তা অনেক সময়ই দৃষ্টি কটু হতে পারে।


বিভিন্ন অধ্যায়ের আলোচনা নিয়ে পর্যালোচনাঃ
এই অংশটি বিশেষ ভাবে সেই সব বইয়ের ক্ষেত্রে যেসব বইয়ে একাধিক অধ্যায়ে একে রকমের বিষয় উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ের উদাহরণ টানা যেতে পারে। আবার সংকলন বইগুলোর উদাহরণ গুলোও বলা যেতে পারে। এমন বই গুলোতে প্রতিটা অধ্যায় কে ঠিক মতো উপস্থাপন করা হলো কি না বা যথার্থ ধারণা দেওয়া হলো কি না, রিভিউয়ের ক্ষেত্রে তা বিবেচ্য বিষয়।

ভাষা ও বিষয় বস্তু ঃ
একটি বইয়ের এমন উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যাতে পাঠক সেই বইটি পাঠের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। বইটির বিষয়বস্তু পাঠকের শ্রেণী অনুযায়ী প্রাঞ্জল ভাষায় এবং সহজ বোধগম্য করে এবং বিষয়বস্তু বিশ্লেষণে লেখকের  মনোভাব তুলে ধরতেও রিভিউয়ে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

বানানঃ
একটি বই পড়তে গেলে তাতে বানানের ত্রুটি থাকলে তা পাঠের আনন্দ অনেকটাই নষ্ট করে দেয়। আর বইয়ে বানান রীতি অনুসরণ করার ক্ষেত্রে বিশেষ করে বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ে এনসিটিবি, বাংলা একোডেমি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির বানান রীতি অনুসরণ করাই উত্তম। এতে সাধারণ পাঠকের গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকে। কাজেই রিভিউয়ের ক্ষেত্রে বানানের দিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরী।

সংযোজিত ছবি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)ঃ
বইয়ে সংযোজিত ছবি পাঠকদের কাছে পরিস্কার ভাবে উপস্থাপন করাটা জরুরী । না হলে তা পাঠকের কাছে বইটির আকর্ষণ হারায়। অনেক সময়ই দেখা যায় বইয়ে সংযোজিত ছবি অস্পষ্ট যার মর্মোদ্ধার করাই সম্ভব হয়ে উঠে না ফলে তা পাঠকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে পরে।

পরিশেষ কয়েকটি কথা বলবো,

■ একটি বই বাঁধাই ও ছাপানোর ক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করা উচিত
■ বইয়ে সংযোজিত ছবিগুলো যেন স্পষ্ট হয় সেদিকে যথাযথ নজরদারী করা উচিত
■ বইটির নির্দিষ্ট আকার ও আকৃতি যেন সঠিক থাকে সেদিকে প্রকাশকের এবং সংশ্লিস্ট ব্যাক্তিদের দৃষ্টি যেন থাকে।
■ ছাপার অক্ষরগুলো সর্বক্ষেত্রে যেন স্পষ্ট থাকে।

এবং সর্বোপরি একটি একটি মান সম্মত রিভিউয়ের জন্যে একজন মনোযোগী পাঠক হতে হবে।


যারা আরো জানতে চান তাদের জন্যে ...
■www.writing-world.com/freelance/asenjo.shtml

■এবং ইউটিউবে দেখতে পারেন
http://www.youtube.com/watch?v=ZNmk6IM4Nzw



≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈
একটি বোনাসঃ এটা কোন বইয়ের রিভিউ নয়। একটি বই থেকে আমার ভালো লাগা কিছু কোটেশন :P

বইঃ সোনালী দুঃখ
লেখকঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


♥ ভালবাসা হচ্ছে আগুনের মতো, যাতে পাপ স্পর্শ করে না ।

♥ জীবনে ভালবাসাই হচ্ছে একমাত্র দুঃখ, যেখানে মানুষ ইচ্ছা করে ঝাঁপিয়ে পড়ে

♥ ভালবাসা ঘৃণাকে জয় করতে পারে

♥ প্রাণের বিনিময়ে তো প্রাণ পাওয়া যায় না

♥ দিনের আলোয় যখন সারা দুনিয়া ঝকমক করে, তখনো মানুষের ছায়া পরে। জীবন কখনো সরল পথে চলতে জানে না। যতই আলো থাক তার মধ্যেও ছায়া থাকবে

♥ ভালবাসার এমনই টান যে কাপুরুষকেও দুঃসাহসী হতে লোভ দেখায়

♥ আমি তোমার হাতেই মরতে চাই। পরের জন্মে আবার আসবো তোমার কাছে, তোমাকে জয় করতে...

♥ আমি জন্ম-জন্মান্তরে ঘুরে আসবো তোমাকে জয় করতে। আমি তোমাকেই চাই...

♥ পদমর্যাদার প্রতি মানুষের এমন ভক্তি!

♥ ভালোবাসা এই রকমই, সে আর সব কিছুকে আড়াল করে দেয়। 

♥ ওদের মৃত্যু ভয় নেই, ওদের শুধু আর দেখা না হবার ভয়!

♥ ইচ্ছা জিনিসটা এমন তা যে কি অবলম্বন করে কখন বেড়ে ওঠে কেউ জানেনা।
[কোটেশন গুলো আগে আরেক জায়গায় প্রকাশ করেছিলাম।]

সবাই ভালো থাকুন।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites