ম্যুভি রিভিউ- "দ্য স্পীড"

অনেকদিন পর বলাকায় গেলাম বাঙলা সিনেমা অনন্ত জলীল অভিনিত ম্যুভি "দ্য স্পীড" দেখতে। সিনেমা শুরুর আগে পর্দা সরে গেল সিনেমা হলের এবং স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় সংগীত মিউজিকে পরিবেশন । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় ৩০% দর্শক সে সময় বসা থেকে উঠার নাম পর্যন্ত করেনি এই কয়েক মিনিট দাড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শণ করতে। সিনেমার শুরুই হলো বেশ দারুন সাউন্ডের ইফেক্ট দিয়ে। "দ্য স্পীড" নামটিকে সার্থক করতেই হয়তো।

শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০১৩

ভাবনার জগতকে নাড়িয়ে দেয়া ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমাগুলো

"দহন"ঋতুপর্ণ ঘোষের "দহন" দেখলাম ।  দেখছিলাম আর জ্বলছিলাম...কষ্টে কষ্টে নীল হয়ে যাচ্ছিলাম । জীবনের এতো কাছ থেকে নেয়া বলেই এই ধরনের সিনেমাগুলোকে মনে হয় জীবনধর্মী সিনেমা বলা হয়। যা আমাদেরকে ভাবতে বাধ্য করে। আমাদের মাঝে অতি আপনজনের পর হয়ে উঠা, অপরিচিত হয়ে উঠা...হৃদয়ের রক্তক্ষরণ চারপাশটাকে লালে লাল হয়ে জমাট বেঁধে ফেলা... সত্যিই প্রতিটা মেয়ের কানে কানে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে...নারী... এতো আধুনিকতা, এতো শিক্ষা, ক্ষমতায়ন...তুমি কি সত্যিই তোমার পাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছ ?!উইকিপিডিয়ায় "দহন" আইএমডিবি-র রেটিং ৮.১ইউটিউবে "দহন""খেলা "আমি কখনোই সেভাবে সাপোর্ট করি নি, বিদেশী সিনেমা আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোনভাবে প্রভাব ফেলতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে চলুক নিয়মিত। বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমাতো নয়ই (আর পাকিস্তানী সিনেমার প্রশ্নই উঠে না)। কিন্তু ঋতুপর্ণ ঘোষের দুদিন আগে দেখা "দহন" আর আজকে...

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

অনুগল্প : "শোধ"- শুরুর পরে/শেষের আগে

ICMAB এর সামনে দিয়ে যখন আসছিল তখন বেশ বাতাস বইছিল। নীলক্ষেত থেকে কাটাবনের দিকে যেতে আইসিএমএবির গেটের উত্তর পাশের বসা লোকটার দৃষ্টি খেয়াল করে মুক্তা দেখলো তার কামিজের কাপড়টা একটু উড়ে গিয়ে উপরে উঠে গেছে। আর হাটুর অল্প উপরে উঠে যাওয়া সালোয়ার-এর উপর দিয়ে সেই লোক কি দেখার চেষ্টা করছে তা সেই জানে ! এক বৃষ্টির সন্ধ্যায় আইইআর এর ক্লাস শেষ করে মহসীন হলের মাঠের পাশ দিয়ে ছাতা মাথায় অন্ধকারে ফেরার পথে সবেগে চলা এক খালি রিক্সার চালক দ্রুততার সাথে ওর গায়ে হাত মেরেছিল ও কষ্ট পাওয়ার চেয়ে অবাক হয়েছিল ! পোশাকের শালীলতায় ওর শত্রুরাও ওকে কোন বাজে কথা শোনানোর কথা ভাবে না। তাহলে এই রিক্সাওয়ালার অন্ধকারে পোশাকে আবৃত এক নারীকে দেখেই তার আদিম প্রবৃত্তি জেগে উঠল ?! "তবে যে ধর্ষনের কারণ হিসেবে মেয়েরা নাকি প্রভোকিং ক্যারেক্টার হিসেবে কাজ করে ?! কিভাবে সেটা?!" মুক্তা আমায় জিজ্ঞেস করেছিল । আমি চুপসে যাওয়া মুখে...

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

অনুগল্প: পরিচয়হীন

বেরিয়ে এলাম, বেশ্যা হলাম কুল করলাম ক্ষয় এখন কি না ভাতার শালা ধমকে কথা কয় ! কথা গুলো চিবিয়ে চিবিয়ে যখন মুক্তা আমায় বলছিল , আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম ! ভার্সিটিতে একই হলে থাকার সুবাদে জানতাম ওর প্রেমের কথা। মাস্টার্স-এর পরীক্ষা যখন শেষের দিকে ওকে আটকানোর জন্যে বাড়ি থেকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়, যেনো পরীক্ষার পর ও বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়। বাড়ির মানুষজন কানাডা প্রবাসী ছেলে ঠিক করে রেখেছে বিয়ে দিতে। মুক্তার মাথায় তখন বিয়ে নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেই। ওদের প্রেমেও এমন কোন জটিলতা ছিল না যে, সেই সময় বিয়ে করাটা জরুরী ছিল। কিন্তু বড় বোনকেও একই কায়দায় বিয়ে দেওয়ায় মরিয়া হয়ে উঠে মুক্তা ! জীবনে যাকে বিশ্বাস করে হাতটা ধরেছিল, সেই সুমিতকে অনুরোধ করেছিল...

রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩

কবিতা : সম্পর্ক

তোমার সাথে আমার পার্থক্যটা এখানেই... তুমি আঘাত করতে পারো আমি নই । আমি সম্পর্কের সম্মান রাখতে পারি। সম্পর্কে যদি সম্মাণই না থাকলো তবে কিসের সম্পর্ক?! তুমি কি এতোটাই আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠলে যে, আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না?! আমি তো আসলেই তোমাকে ছেড়ে যেতে পারবো না। কি এক অমোঘ টানে, জালে আমি আটকা পড়েছি :( কতোবার যে ছুটতে চেয়েছি :( তোমার বাঁধার ক্ষমতা অসীম :...

অনুগল্প : চেনা-অচেনা

ফোনটা নিয়ে অনেকক্ষণ থেকেই উসখুশ করছে ... কতোদিন রিশাদের সাথে কথা হয় না নিপার ! ভারী, অস্থির কন্ঠটা শুনতে নিপাই অস্থির হয়ে যাচ্ছে... এমন কখনো হয় নি যে, দু'জন পুরো সময়টা ধরেই ঠান্ডা মাথায় কথা বলেছে...বরং দেখা গেছে যতক্ষণ কথা বলতো তার মধ্যে অনেক বেশি সময়ই রাশেদ খুব কঠিন কঠিন কথা শোনাতো নিপাকে... কঠিন কথা শুনতে শুনতে একরকম মোহগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছিল ! রিশাদ ফোন করলে নিপা ফোনটা রিসিভ করে অপরপ্রান্তে চুপ করে থাকতো । তারপর ওই পাশ থেকে রিশাদের ধমক খেয়ে নিপার মুখ থেকে কথা বেরুতো ... শুধু ঝারি খেতেই নিপা অনেক সময় রিশাদকে খেপাতো .... ভাবতে ভাবতে নিপার চোখ ভরে যায় পানি তে ... সমাজে বলার মতো আহামরি কোন সম্পর্কই নেই দু'জনের মধ্যে । শুধুই দু'জনে দু'জনার শুভাকাঙ্খি । কখনো কোন রকম রোমান্টিকতার নায়ে তারা চড়ে বসেনি। কিন্তু তারপরও কেমন অদ্ভুত এক মোহগ্রস্থতা ! রিশাদের ফোন খুব কম সময়ই খোলা পেয়েছে নিপা। কিন্তু...

শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৩

♣ ধর্ষণ...! সামাধান কি আসলেই আছে?! ♣

একজন নারী ধর্ষিত হবার প্রথমেই তার মাথায় ধর্ষকের শাস্তির চিন্তা আসে না । হয়তো সে ধর্ষিতা হবার পরপর বার বার করে গোছল করে তার শরীর থেকে অসহ্য ঘৃণা সরিয়ে ফেলতে চায় ! সে তার সব থেকে কাছের মানুষটির/মানুষগুলোর সান্নিধ্য চায় সেই সময়ে । তারপর হয়তো সে চায় ধর্ষকের শাস্তি হোক। কিন্তু ততক্ষণে ধর্ষিতার শরীর থেকে ধর্ষনের আলামত অনেকটাই মুছে যায় । আর আলামত মুছে যাওয়ার কারণে এবং সমাজ জানাজানি, লোক কানাকানি, ধর্ষকের পক্ষ থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষনের মামলা আর আগাতে পারে না। ধর্ষক খালাস পেয়ে যায় । একটি উদাহরণ দেয়া যাক- খুবই সাধারণ একজন চাকুরে মুরাদ এর বড়লোক বন্ধুটি বড়ই রসময় সব রঙ্গতামাশা করতে ওস্তাদ তার বন্ধুপত্নীর সঙ্গে এবং সেটা্ও মুরাদ এর অনুপস্থিতিতে বড্ড অসময়ে, যখন মুরাদ বাড়ির বাইরে থাকে অর্থাঁৎ অফিসে। খুবই সাহায্যকারী মনোভাবাপন্ন বন্ধু শামীমের এই নিয়মিতই অসময়ে উপস্থিতি বন্ধু...

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৩

প্রিয়তমেষু

প্রিয়তমেষু, লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট বলে একটা কথা আছে না?! ওটা আমি আগে কখনো সেভাবে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু পাড়াত ছোট ভাইয়ের দেয়া ঠিকানায় যেয়ে তোমাকে দেখে প্রথমে বুঝতেই পারি নি, এ আমার কার সাথে পরিচয় হলো। দিন নেই, রাত নেই শুধুই তোমার কথা ভেবেছি। সম্পর্কটা তোমার সাথে আমার আজকে দেখলাম দুই বছর হতে চলল। অনেক ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, অনেক সম্মানও যেমন পেয়েছি, তেমনি অনেক অবহেলা, অনেক অবজ্ঞা, অনেক অসম্মানও পেয়েছি। বিশ্বাস করো, আমার এই জীবনে এতো অসম্মান আমি এর আগে আর কোথাও থেকে পাইনি ! কতোদিন ভেবেছি এতো অসম্মানের, এতো অবজ্ঞার এই সম্পর্ক আর রাখবো না। কতোবার তোমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। সে সময়গুলোতে লুকিয়ে লুকিয়ে তোমাকে দেখতাম! আমি সত্যিই পারিনি তোমাকে ছেড়ে, তোমাকে ভুলে একটাদিনও থাকতে। কতো পাড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারছি কোথায় বল। সম্পর্কে জড়িয়ে রাখার ক্ষমতা তোমার সত্যিই অদ্ভুত! কি যাদু...

বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৩

কবিতা : অক্সিজেন

কোন এক শেষ বিকেলে সে আমার হাতটা ধরে বলেছিল ... আমার সাথে থাকবা না? হ্যাঁ, আমি কথা দেই নি। কিন্তু কথাটা না দিয়েও রেখেছিলাম। সেইই বরং কথা রাখতে পারে নি। সাথেই আছি... আমি ছেড়ে যেতে পারি নি। সেই হারিয়ে গেছে.. হারিয়ে গিয়ে নিজেই হেরে বসে আছে ! আমি কিন্তু জিতেই গেছি ! আমি জিতেই আছি ! আজও আমার ভালোবাসার সবটা জুরে সে আছে । একটা সময় আবিষ্কার করেছিলাম আমার শ্বাস কষ্টের রোগ হয়ে যাচ্ছে। ইনহেলারের প্রয়োজনটা বড্ড বেড়ে গেছে ! হ্যাঁ, ইনহেলার সেই-ই ছিল । কিন্তু সে বুঝতে পারে নি, আমি আমার শ্বাসকষ্টের রোগটা থেকে নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারবো । সারিয়ে আমি নিজেকে তুলেছি ঠিকই কিন্তু ... এখনও আমার অক্সিজেনের ঘাটতি পরে যায়... অক্সিজেনের ঘাটতি পরে যায় যখন ভাবনায় তুমি এসে ভীড় করো । তুমি আমার জীবনে যে অক্সিজেন হয়েই আছো !...

লাইসেন্স

বিশাল মোটা মোটা পিলারগুলোকে পাশ কাটিয়ে চার তলার উপর থেকে খুব সফলভাবেই গাড়ি নামাতে পারল রিন্তা। সিকিউরিটি গার্ড হর্ন শুনেও গেটটা খুলতে দেরী করলো ! গেট পার হতে যেয়ে সাপের মতো ঠান্ডা চোখে একবার গার্ডটাকে দেখে নিল সে। গেটের বাইরে যখন বেরিয়ে এলো ততক্ষণে বিকেলের পড়ন্তু সূর্য কমলা আলো ছড়াচ্ছে পশ্চিমাকাশে । মিনিটখানেকের জন্যে বাম হাতে স্টিয়ারিংটা ধরে তাকিয়ে থাকল লাইসেন্সটার দিকে। গতকালই পেয়েছে। সাত হাজার টাকা ঘুষও দিতে হয়েছে এর জন্যে । রিন্তা কতোদিন কল্পনার সাগরে ভেসেছে যে, প্রচন্ড মন খারাপ থাকা অবস্থায় ধুমধারাক্কা গাড়ি চালিয়ে কোন একটা দেয়ালে সজোরে গাড়ি লাগিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে। তারপর হুশ ফিরে এলে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করবে বরের বাহু বন্দি অবস্থায় । ছলছল চোখে বর বলবে "কেনো এমন পাগলামি করো রিন্তা?" ইফতারির এখনো মিনিট ত্রিশেক দেরী আছে। আজকে চাঁদ...

Page 1 of 26123Next

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites