ম্যুভি রিভিউ- "দ্য স্পীড"

অনেকদিন পর বলাকায় গেলাম বাঙলা সিনেমা অনন্ত জলীল অভিনিত ম্যুভি "দ্য স্পীড" দেখতে। সিনেমা শুরুর আগে পর্দা সরে গেল সিনেমা হলের এবং স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় সংগীত মিউজিকে পরিবেশন । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় ৩০% দর্শক সে সময় বসা থেকে উঠার নাম পর্যন্ত করেনি এই কয়েক মিনিট দাড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শণ করতে। সিনেমার শুরুই হলো বেশ দারুন সাউন্ডের ইফেক্ট দিয়ে। "দ্য স্পীড" নামটিকে সার্থক করতেই হয়তো।

১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসের কোন একদিন

মানুষের জীবনে বোধ সঞ্চারের এক নির্ভেজাল উপাদানের নাম কবিতা। কবিতা কখনো মানুষের মনকে রাঙিয়ে দেয়, কখনো বদনার কালো রঙ ঢেলে উপলব্ধিগুলোকে সতেজ করে তোলে; জীবন দর্শনের পথকে করে প্রশস্ত।

নারী-পুরুষ নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলি

'জেন্ডার' শব্দটি মুলত নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝায়, বোঝায় নারী-পুরুষকে নিয়ে বৈষম্যহীণ সমাজের, রাষ্ট্রের কথা। সংস্কৃতি ও সমাজ নারী ও পুরুষ সম্পর্কে যে সব দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে, ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতে শেখায়, কিংবা ভুমিকা পালন করতে বলে, সেসবই হচ্ছে জেন্ডার।

সৌদি নারী...অতঃপর রোকেয়া

যদি আজ থেকে প্রায় একশ বছর পেছনে তাকাই বেগম রোকেয়ার (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন১৮৮০-১৯৩২) জীবনে যিনি সৌদি নারীদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাননি কিন্তু তার দেখানো আলোতে এখনও আমরা পথ দেখি।

নারী....আর কতোকাল রবে শুধুই অর্কিড হয়ে!

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা হচ্ছে নারী হবে নরম-কোমল, সর্বংসহা (মাতা), মনোরঞ্জনকারিনী (বধূ)। তারা থাকবে অন্দরমহলে। আর তাই প্রবাদে শোনা যায়... 'ঝি নষ্ট হয় হাঁটে, বউ নষ্ট হয় ঘাটে'।....অর্থাৎ ঝি কে হাঁটে-বাজারে-মার্কেটে পাঠানো যাবে না আর বউকে পুকুর ঘাটে পাঠানো যাবে না (যদিও গ্রাম এলাকায় পরিবারের পানির যোগান দাতা সাধারণত নারীই)।

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

অনুগল্প: পরিচয়হীন



বেরিয়ে এলাম, বেশ্যা হলাম
কুল করলাম ক্ষয়
এখন কি না ভাতার শালা
ধমকে কথা কয় !

কথা গুলো চিবিয়ে চিবিয়ে যখন মুক্তা আমায় বলছিল , আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম !

ভার্সিটিতে একই হলে থাকার সুবাদে জানতাম ওর প্রেমের কথা।
মাস্টার্স-এর পরীক্ষা যখন শেষের দিকে ওকে আটকানোর জন্যে বাড়ি থেকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়, যেনো পরীক্ষার পর ও বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হয়।
বাড়ির মানুষজন কানাডা প্রবাসী ছেলে ঠিক করে রেখেছে বিয়ে দিতে।

মুক্তার মাথায় তখন বিয়ে নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেই। ওদের প্রেমেও এমন কোন জটিলতা ছিল না যে, সেই সময় বিয়ে করাটা জরুরী ছিল।
কিন্তু বড় বোনকেও একই কায়দায় বিয়ে দেওয়ায় মরিয়া হয়ে উঠে মুক্তা !

জীবনে যাকে বিশ্বাস করে হাতটা ধরেছিল, সেই সুমিতকে অনুরোধ করেছিল একটা সাবলেট বাসা খুজেঁ দিতে...
নারীবাদী সুমিত নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলেও মুক্তাকে নিজের ঘরে আটকাতে চেয়েছিল।
মায়ের অমতে বাবার সাথে বিয়ের পরিকল্পনা করে সুমিত মুক্তাকে জানায়। মুক্তা তখন কোনভাবেই বিয়ে করবে না...

কিন্তু একান্ত ভরসার মানুষ সুমিত যখন জানায় এই সময় বিয়ে না করলে আগামী একবছরের মধ্যে আর বিয়ে করতে পারবে না, তখন মুক্তা নিরুপায় হয়ে বিয়ে করে সুমিতকে।

খান্ডারনী শ্বাশুড়ীর অত্যাচারে দাঁতে দাঁত চেপে মুক্তা সুমিতের সাথে জীবন পার করতে থাকে।

শ্বাশুড়ী ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে, মুক্তা একটা বেশ্যা, তার
আর বেশ্যা বলেই সে (মুক্তা) তার ছেলেকে কব্জা করেছে।
শ্বাশুড়ির এহেন কথাবার্তায় মুক্তা নিজেকে ইদানিং বেশ্যা ভাবতে শুরু করেছে !
মুক্তার কথা হচ্ছে সে তার স্বামী সুমিতের সাথে আছে একজন পতিতা হিসেবে, স্ত্রী হিসেবে নয়। যে আসলেই পতিত। যে এখন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা একজন বেশ্যা।
আর যেই সুমিতকে ভরসা করতে বাধ্য হয়েছিল, সেই সুমিত প্রতিনিয়ত অফিস থেকে বাসায় ফিরে মুক্তার নামে শ্বাশুড়ির কান পড়া শুনতে শুনতে এখন মুক্তাকেও যথেষ্ট পরিমাণেই চাপের মধ্যে রাখতে শুরু করেছে...

মাঝে মাঝে জানালার গ্রীল ধরে মুক্তা ভাবে...বিয়েটাকে খুব জরুরী মনে না করেও কেন সে বিয়েতে রাজি হয়েছিল !?

রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩

কবিতা : সম্পর্ক

তোমার সাথে আমার পার্থক্যটা এখানেই...
তুমি আঘাত করতে পারো
আমি নই ।
আমি সম্পর্কের সম্মান রাখতে পারি।
সম্পর্কে যদি সম্মাণই না থাকলো
তবে কিসের সম্পর্ক?!
তুমি কি এতোটাই আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠলে যে,
আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না?!
আমি তো আসলেই তোমাকে ছেড়ে যেতে পারবো না।
কি এক অমোঘ টানে, জালে আমি আটকা পড়েছি :(
কতোবার যে ছুটতে চেয়েছি :(
তোমার বাঁধার ক্ষমতা অসীম :(

অনুগল্প : চেনা-অচেনা

ফোনটা নিয়ে অনেকক্ষণ থেকেই উসখুশ করছে ...
কতোদিন রিশাদের সাথে কথা হয় না নিপার !
ভারী, অস্থির কন্ঠটা শুনতে নিপাই অস্থির হয়ে যাচ্ছে...

এমন কখনো হয় নি যে, দু'জন পুরো সময়টা ধরেই ঠান্ডা মাথায় কথা বলেছে...বরং দেখা গেছে যতক্ষণ কথা বলতো তার মধ্যে অনেক বেশি সময়ই রাশেদ খুব কঠিন কঠিন কথা শোনাতো নিপাকে...
কঠিন কথা শুনতে শুনতে একরকম মোহগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছিল !
রিশাদ ফোন করলে নিপা ফোনটা রিসিভ করে অপরপ্রান্তে চুপ করে থাকতো ।
তারপর ওই পাশ থেকে রিশাদের ধমক খেয়ে নিপার মুখ থেকে কথা বেরুতো ...
শুধু ঝারি খেতেই নিপা অনেক সময় রিশাদকে খেপাতো ....

ভাবতে ভাবতে নিপার চোখ ভরে যায় পানি তে ...

সমাজে বলার মতো আহামরি কোন সম্পর্কই নেই দু'জনের মধ্যে । শুধুই দু'জনে দু'জনার শুভাকাঙ্খি ।
কখনো কোন রকম রোমান্টিকতার নায়ে তারা চড়ে বসেনি।

কিন্তু তারপরও কেমন অদ্ভুত এক মোহগ্রস্থতা !

রিশাদের ফোন খুব কম সময়ই খোলা পেয়েছে নিপা। কিন্তু আজ যেন ভুতে পেয়েছে ওকে ...
নাম্বারটা ডায়াল করে তাকিয়ে থাকে ফোনের দিকে...
যদি ফোন খোলা পায়ও তবুও কথা বলতে পারবে না...
ওর আসলে বলার কিছুই নেই।
নাহ, ফোন বরাবরের মতোই ...

এবার টেক্সট পাঠালো ...
জানে রিশাদ ফোন বন্ধ রাখলেও ও নিজেও অস্থির চিত্তের ...কোন এক ফাঁকে ঠিকই ফোনটা চালু করবে আর তখন ওর মেসেজটা ঠিকই ডেলিভারড হবে...

আজকাল তোমাকে মেসেজ দিতেও কেমন অস্বস্তি হয় !
কতো দূরের অচেনা হয়ে গেছ ...!

শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৩

♣ ধর্ষণ...! সামাধান কি আসলেই আছে?! ♣

একজন নারী ধর্ষিত হবার প্রথমেই তার মাথায় ধর্ষকের শাস্তির চিন্তা আসে না । হয়তো সে ধর্ষিতা হবার পরপর বার বার করে গোছল করে তার শরীর থেকে অসহ্য ঘৃণা সরিয়ে ফেলতে চায় ! সে তার সব থেকে কাছের মানুষটির/মানুষগুলোর সান্নিধ্য চায় সেই সময়ে । তারপর হয়তো সে চায় ধর্ষকের শাস্তি হোক। কিন্তু ততক্ষণে ধর্ষিতার শরীর থেকে ধর্ষনের আলামত অনেকটাই মুছে যায় । আর আলামত মুছে যাওয়ার কারণে এবং সমাজ জানাজানি, লোক কানাকানি, ধর্ষকের পক্ষ থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষনের মামলা আর আগাতে পারে না। ধর্ষক খালাস পেয়ে যায় ।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক-
খুবই সাধারণ একজন চাকুরে মুরাদ এর বড়লোক বন্ধুটি বড়ই রসময় সব রঙ্গতামাশা করতে ওস্তাদ তার বন্ধুপত্নীর সঙ্গে এবং সেটা্ও মুরাদ এর অনুপস্থিতিতে বড্ড অসময়ে, যখন মুরাদ বাড়ির বাইরে থাকে অর্থাঁৎ অফিসে।
খুবই সাহায্যকারী মনোভাবাপন্ন বন্ধু শামীমের এই নিয়মিতই অসময়ে উপস্থিতি বন্ধু মুরাদকে দুশ্চিন্তায় না ফেললেও ভাবিয়ে তোলে কমবয়সী স্ত্রী পুস্পকে।

একসময় কোন এক দুপুরের পর পর সময়ে শামীমের উপস্থিতি এবং সন্দেজনক আচরণ এবং তারপরই পুষ্পকে একা বাড়িতে পেয়ে আক্রমণের ধকল সামলাতে না পেরেপেুষ্প অজ্ঞান হয়ে যায় ।
মুরাদের কাছে দেবতারুপী বন্ধুই হায়েনা হয়ে ঝাপিয়ে পরে অজ্ঞান পুষ্পকে ছিঁবড়ে খেতে !

আইন যুক্তি ছাড়া, প্রমাণ ছাড়া আবেগ দিয়ে এগিয়ে যায় না । থেমে যায় ধর্ষিতার নিরব যন্ত্রনাকে অন্ধকারে রেখে।
বাস্তবে অন্তত তাই হয়...

কিন্তু কখনো কখনো নাটক, সিনেমাতে দর্শককে সচেতন করতে এগিয়ে আসে কোন কোন কাহিনীকার। সেখানে যোগ হয় যখন পুরনো কেস ঘেটে দেখা যায় শামীম নামের মানুষরূপী হায়েনারা এর আগেও একই ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে বেঁচে যেয়ে ঘুরে বেড়ায় বুক ফুলিয়ে, তখন কোন একজন উকিলের বক্তব্যের মারপ্যাচে আর ভবিষ্যতে এই হায়েনার দ্বারা আরো নারী ধর্ষিত হতে পারে...এই আশংকা ঢুকিয়ে দেয় প্রধান বিচারকের মনেও । তখন বিচারক রায় দিয়ে সাজা দেন এই সব শামীমদের।
সমাজকে, বিবেককে সচেতন করতে তেমনই একটি সিনেমা "প্রিয়তমেষু"

ঘটনাগুলো আরো চাপা পরে যায় যখন ধর্ষক খুব পরিচিত কাছের কেউ হয়। হতে পারে তার সহোদরার স্বামী, যে কিনা ধর্ষিতার "দুলাভাই" বা তার প্রিয় খালার স্বামী "খালু" অথবা তার অনেক পছন্দের ফুফুর স্বামী "ফুফা" হয় সেক্ষেত্রে  ধর্ষিতা নিজেই হয়তো ধর্ষকের কথা ভেবে নয় বরং ধর্ষকের সাথে সম্পৃক্ত তার আপন মানুষদের হতে পারে বোন, খালা,ফুফু বা আর কেউ নিকটাত্নীয়ের অসম্মান, কষ্টের কথা ভেবে বিষাক্ত যন্ত্রণাকে পাথর চাপা দেয়।

ধর্ষক যেহেতু জানে আইন তার কিছুই করতে পারবে না, পরবর্তীতে আরো কেউ একই পন্থায় ধর্ষিতা হয় এবং আলামত মুছে যায় । এভাবেই ধর্ষকরা টিকে থাকে আর সমাজকে নোংরা দূর্গন্ধময় করে যাচ্ছে নিরবে। আমাদের নাক দূর্গন্ধ সহ্য হওয়া নাক। তাই আমাদের অসহ্য লাগে না । সাময়িক ক্রোধ প্রশমিত হয়ে যায় সহসাই।

কয়েকদিন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে, ব্লগে পোস্ট দিয়ে, শাহবাগে বা এমনি কোন রাজপথে মানববন্ধন করে তারপর ভুলে যাই।

কয়েকদিন পর নতুন আরেক ধর্ষিতার আর্তচিৎকার আমাদের কর্ণগহ্বরে প্রবেশ করলে শুরু হয়ে যায় আমাদের ক্রোধাগ্নীর আবার সেই চক্র ।
এভাবেই চলতে থাকে চক্রাকারে...সেই সাথে থেমে থাকে না ধর্ষকেরও ছিঁবড়ে খাওয়ার ভোজন পর্ব .............................. 

বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই ব্লগার জালিস মাহমুদকে তার **কিছু বাংলা মুভি** পার্ট ~ ১ পোস্টটির জন্যে যা আমাকে এই পোস্টটি তৈরী করতে সাহায্য করেছে।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৩

প্রিয়তমেষু

প্রিয়তমেষু,
লাভ এ্যাট ফার্স্ট সাইট বলে একটা কথা আছে না?! ওটা আমি আগে কখনো সেভাবে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু পাড়াত ছোট ভাইয়ের দেয়া ঠিকানায় যেয়ে তোমাকে দেখে প্রথমে বুঝতেই পারি নি, এ আমার কার সাথে পরিচয় হলো। দিন নেই, রাত নেই শুধুই তোমার কথা ভেবেছি। সম্পর্কটা তোমার সাথে আমার আজকে দেখলাম দুই বছর হতে চলল। অনেক ভালোবাসা যেমন পেয়েছি, অনেক সম্মানও যেমন পেয়েছি, তেমনি অনেক অবহেলা, অনেক অবজ্ঞা, অনেক অসম্মানও পেয়েছি। বিশ্বাস করো, আমার এই জীবনে এতো অসম্মান আমি এর আগে আর কোথাও থেকে পাইনি ! কতোদিন ভেবেছি এতো অসম্মানের, এতো অবজ্ঞার এই সম্পর্ক আর রাখবো না। কতোবার তোমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। সে সময়গুলোতে লুকিয়ে লুকিয়ে তোমাকে দেখতাম! আমি সত্যিই পারিনি তোমাকে ছেড়ে, তোমাকে ভুলে একটাদিনও থাকতে। কতো পাড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারছি কোথায় বল। সম্পর্কে জড়িয়ে রাখার ক্ষমতা তোমার সত্যিই অদ্ভুত! কি যাদু জানো বলতো?!

আমাকে বিদ্যার জাহাজ বানাতে তুমি যেন উঠে পড়ে লেগেছ! এতো পড়ার সীমাহীন সিলেবাস তুমি আমায় ধরিয়ে দিয়েছো যে, এখন নিজের পড়া তৈরীর পাশাপাশি সেই বিশাল সিলেবাসও আমায় হজম করতে হচ্ছে ! আমার কষ্ট হয় না বুঝি!

রাত জাগলে আমার চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে! সেই নিয়ে তোমার সে কি দুশ্চিন্তা! কতো মিষ্টি করে তুমি আমায় বোঝালে যেন তোমার সাথে কথা বলতে বলতে বেশি রাত করে না ফেলি।
জানো, কিছুদিন সত্যিই আমি তোমার কথা মেনে চলেছি। এখনও কেউ রাত জাগা নিয়ে কথা বললে তোমার কথাই প্রথম মনে হয়।

মাঝে মাঝে তোমার রূঢ় আচরণে আমার যে কি প্রচন্ড কষ্ট হয়! তুমি বুঝতে পারো না!? আমি তোমার গত কয়েক বারের দেয়া কষ্টগুলো ভুলতে পারিনি! কতোটা অভিমান করলে তুমি বুঝতে পারবে তাই ভাবছি!
আমার অভিমানগুলো কি সত্যিই বুঝতে পারো?!

আমি মনে হয়, তোমাকে ছেড়ে এই ইহজনমে আর কোথায়ও যেতে পারবো না
ইতি,
তোমারই আরজুপনি

বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৩

কবিতা : অক্সিজেন

কোন এক শেষ বিকেলে সে আমার হাতটা ধরে বলেছিল ...
আমার সাথে থাকবা না?

হ্যাঁ, আমি কথা দেই নি।
কিন্তু কথাটা না দিয়েও রেখেছিলাম।
সেইই বরং কথা রাখতে পারে নি।
সাথেই আছি...
আমি ছেড়ে যেতে পারি নি।
সেই হারিয়ে গেছে..
হারিয়ে গিয়ে নিজেই হেরে বসে আছে !

আমি কিন্তু জিতেই গেছি !
আমি জিতেই আছি !
আজও আমার ভালোবাসার সবটা জুরে সে আছে ।

একটা সময় আবিষ্কার করেছিলাম
আমার শ্বাস কষ্টের রোগ হয়ে যাচ্ছে।
ইনহেলারের প্রয়োজনটা বড্ড বেড়ে গেছে !

হ্যাঁ, ইনহেলার সেই-ই ছিল ।
কিন্তু সে বুঝতে পারে নি,
আমি আমার শ্বাসকষ্টের রোগটা থেকে
নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারবো ।

সারিয়ে আমি নিজেকে তুলেছি ঠিকই কিন্তু ...
এখনও আমার অক্সিজেনের ঘাটতি পরে যায়...

অক্সিজেনের ঘাটতি পরে যায় যখন ভাবনায় তুমি এসে ভীড় করো ।

তুমি আমার জীবনে যে অক্সিজেন হয়েই আছো !

লাইসেন্স

বিশাল মোটা মোটা পিলারগুলোকে পাশ কাটিয়ে চার তলার উপর থেকে খুব সফলভাবেই গাড়ি নামাতে পারল রিন্তা।

সিকিউরিটি গার্ড হর্ন শুনেও গেটটা খুলতে দেরী করলো ! গেট পার হতে যেয়ে সাপের মতো ঠান্ডা চোখে একবার গার্ডটাকে দেখে নিল সে।

গেটের বাইরে যখন বেরিয়ে এলো ততক্ষণে বিকেলের পড়ন্তু সূর্য কমলা আলো ছড়াচ্ছে পশ্চিমাকাশে । মিনিটখানেকের জন্যে বাম হাতে স্টিয়ারিংটা ধরে তাকিয়ে থাকল লাইসেন্সটার দিকে। গতকালই পেয়েছে। সাত হাজার টাকা ঘুষও দিতে হয়েছে এর জন্যে ।

রিন্তা কতোদিন কল্পনার সাগরে ভেসেছে যে, প্রচন্ড মন খারাপ থাকা অবস্থায় ধুমধারাক্কা গাড়ি চালিয়ে কোন একটা দেয়ালে সজোরে গাড়ি লাগিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে। তারপর হুশ ফিরে এলে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করবে বরের বাহু বন্দি অবস্থায় । ছলছল চোখে বর বলবে "কেনো এমন পাগলামি করো রিন্তা?"

ইফতারির এখনো মিনিট ত্রিশেক দেরী আছে। আজকে চাঁদ দেখলে কালকেই ঈদ । বাম ইন্ডিকেটরটা দিয়ে রওনা দিল ক্যান্টমেন্ট-এর উদ্দেশ্যে । ঠিক ক্যান্টনমেন্ট না, ওটা মানিকদির কাছেই মাটিকাটা বলে এলাকাটাকে ।

ওভারপাসটা হওয়াতে টান দিয়ে চলে যাওয়া যায় । ঢাকার রাস্তায় যেখানে রিক্সার পিছে পিছে মেজাজ খিচ মেরে গতি রাখতে হয় ১৫ কিমি, সেখানে নিশ্চিন্তে ৭০কিমি গতি উঠিয়ে চলে যাওয়া যায় কিছুক্ষণের মধ্যেই ।

ইফতারির সময় ঘনিয়ে আসাতেই হোক বা এলাকাটাকে বসতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়াতেই হোক রাস্তা দিয়ে হঠাৎ হঠাৎ করে গাড়ি চলছে।
আড়চোখে গতি দেখে নিল, ৮০ তে উঠিয়েছে ! ক্যান্টনমেন্ট থানা পার হয়ে মিরপুর থানায় গিয়ে পড়লো । রাস্তা দিয়ে একটা ছেলে হেঁটে যাচ্ছে। হাতে একটা ঝোলা ব্যাগ। চারদিকে শুনশান নিরবতা।

রিন্তা গতি বাড়িয়ে ১০০ তে উঠিয়ে দিয়ে ছেলেটাকে সাঁই করে একটা ধাক্কা দিয়ে পার হয়ে যেতে যেতে দেখে নিল কেউ দেখলো কি না...নাহ্ রাস্তা ফাঁকা।

ফাঁকা রাস্তা পার হয়ে খুব সহজেই ফিরে এলো বাসায়।
শাওয়ার সেরে ল্যাপটপটা নিয়ে বসলো । হোমপেজে তাকিয়ে আছে। একসময় স্ট্যাটাস দিল ...

"অনেক অপেক্ষার পর লাইসেন্সটা পেয়ে গেলাম শেষ পর্যন্ত..."

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites