ম্যুভি রিভিউ- "দ্য স্পীড"

অনেকদিন পর বলাকায় গেলাম বাঙলা সিনেমা অনন্ত জলীল অভিনিত ম্যুভি "দ্য স্পীড" দেখতে। সিনেমা শুরুর আগে পর্দা সরে গেল সিনেমা হলের এবং স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় সংগীত মিউজিকে পরিবেশন । কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম প্রায় ৩০% দর্শক সে সময় বসা থেকে উঠার নাম পর্যন্ত করেনি এই কয়েক মিনিট দাড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শণ করতে। সিনেমার শুরুই হলো বেশ দারুন সাউন্ডের ইফেক্ট দিয়ে। "দ্য স্পীড" নামটিকে সার্থক করতেই হয়তো।

১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসের কোন একদিন

মানুষের জীবনে বোধ সঞ্চারের এক নির্ভেজাল উপাদানের নাম কবিতা। কবিতা কখনো মানুষের মনকে রাঙিয়ে দেয়, কখনো বদনার কালো রঙ ঢেলে উপলব্ধিগুলোকে সতেজ করে তোলে; জীবন দর্শনের পথকে করে প্রশস্ত।

নারী-পুরুষ নিয়ে একটি বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলি

'জেন্ডার' শব্দটি মুলত নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝায়, বোঝায় নারী-পুরুষকে নিয়ে বৈষম্যহীণ সমাজের, রাষ্ট্রের কথা। সংস্কৃতি ও সমাজ নারী ও পুরুষ সম্পর্কে যে সব দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে, ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করতে শেখায়, কিংবা ভুমিকা পালন করতে বলে, সেসবই হচ্ছে জেন্ডার।

সৌদি নারী...অতঃপর রোকেয়া

যদি আজ থেকে প্রায় একশ বছর পেছনে তাকাই বেগম রোকেয়ার (রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন১৮৮০-১৯৩২) জীবনে যিনি সৌদি নারীদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাননি কিন্তু তার দেখানো আলোতে এখনও আমরা পথ দেখি।

নারী....আর কতোকাল রবে শুধুই অর্কিড হয়ে!

প্রচলিত ধ্যান-ধারণা হচ্ছে নারী হবে নরম-কোমল, সর্বংসহা (মাতা), মনোরঞ্জনকারিনী (বধূ)। তারা থাকবে অন্দরমহলে। আর তাই প্রবাদে শোনা যায়... 'ঝি নষ্ট হয় হাঁটে, বউ নষ্ট হয় ঘাটে'।....অর্থাৎ ঝি কে হাঁটে-বাজারে-মার্কেটে পাঠানো যাবে না আর বউকে পুকুর ঘাটে পাঠানো যাবে না (যদিও গ্রাম এলাকায় পরিবারের পানির যোগান দাতা সাধারণত নারীই)।

বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০১৩

নারীর প্রতি দরদ থাকুক বছর জুরে...

নারী দিবস নিয়ে অনেকেই দেখি অনেক বাৎসরিক উৎসবমুখর কথা বলে থাকেন। দরদীদের দেখে ভালোই লাগে। তবুওতো বছরে একটি দিন হলেও দরদ উথলাইয়া পড়ে। অনেক পুরুষদেরই দেখি যারা মুখে নারীবাদী হলেও অন্তরে তা আসলেই ধারণ করেন কি না তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।কারণ তারা তাদের ঘরের নারীদের প্রতি ঠিক ততোটাই কঠোর যতোটা উদার বাইরের নারীদের প্রতি, যতোটা উদার তাদের কর্মক্ষেত্রের সাবোর্ডিনেট নারীদের প্রতি। আবার নারী দিবসে কিছু মহান নারীদেরকেও দেখা যায় যারা ঘরে তাদের পুত্রবধু/ভাইয়ের বউ/গৃহ সহকারীর ব্যাপারে ততোটাই কঠোর যতোটা উদার তারা বাইরের নারীদের প্রতি, যতোটা উদার তারা কথায়। তবুও যদি এসব মুখে উদার পুরুষ/নারীরা মুখে মুখে উদার হতে হতে একসময় তা অন্তরে ধারণ করতে পারেন, সে আশা করতেতো দোষ নেই।

সবাই মানবিক হোক।।

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৩

মানসিক চাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায়




অবাস্তব প্রত্যাশাঃ আমাদের প্রত্যাশা অনেক সময়ই আমাদের সামর্থের চেয়ে বেশিই হয়ে যায়। যদিও মানুষ তার আশার সমান বড়। কিন্তু ধরুণ আপনি একজন গৃহ ব্যবস্থাপক। এক বা দুই বা ততোধিক সন্তানের জননী (জনক বলছি না বিশেষ কারণে) । আপনার পক্ষে এমতাবস্থায় নতুন করে ঘরের বাইরে বা ঘর থেকে দুরে কোথাও ৯ টা ৫টা চাকুরী নিতে গেলে আপনার কাছের অনভ্যস্থ মানুষগুলো কোনভাবেই আপনাকে সহযোগিতা করবে না। সেক্ষেত্রে আপনাকে বিকল্প উপায় খুজেঁ নিতে হবে। কেননা বিকল্প উপায় খুজেঁ না নিলে হয় আপনি জেদ করে চাকুরীতে গেলেন আপনার সন্তানদের সমস্ত দায়ভার কাজের মানুষটির উপর দিয়ে অথবা সন্তানদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে। অথবা চাকুরীতে না গিয়ে নিজে হতাশায় নিমজ্জিত হলেন। তাই নিজেকে হতাশা থেকে বাঁচানোর জন্যে আপনাকে বিকল্প পথ খুজেঁ বের করতেই হবে। এই বিকল্প উপায় কোন সৃজনশীল কাজও হতে পারে। তা লেখালেখি থেকে শুরু করে অন্য যে কোন ধরনের কাজ হতে পারে।

অহেতুক সময় সীমাঃ অনেকেই রুটিন অনুসরণ করে কাজ করতে পছন্দ করেন। কিন্তু সংসার জীবনটা পুরোপুরি রুটিন মেনে চলা সম্ভব নয়। তাই সময়গুলোকে নিজের মতো করে ব্যবহার করুন। তবে তা যেন যথেচ্ছা না হয়। সারারাত কাজ করে দিনের অনেকটা সময় ঘুমানো বা সারাদিন ঝিমানো কোন কাজের কথা না। অনেককেই দেখা যায় রাত জেগে কাজ করে দিনের অনেকটা সময় ঘুমায়...যদিও এই কাজটা অনেকেই নির্জনতায় কাজ করার জন্যেই করে থাকেন। তবে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে যেন শরীর তার প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। এবং এই বিশ্রাম নেয়াটা যেন এমন সময়ে না হয় যখন আপনার অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজ করার সময়। 

সমস্যাকে মোকাবেলা করতে শেখাঃ অনেক সময়ই কাজের চাপ বেড়ে গেলে আমরা তা দুরে সরিয়ে রাখি পরে করবো ভেবে। এতে প্রকৃতপক্ষে নিজেরই ক্ষতি করা হয়। কেননা সেই কাজটা কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করে শেষ করতে না পারলে তা আমাদের মাঝে বোঝা হয়ে হতাশার সৃষ্টি করে। কাজেই প্রয়োজনীয় কাজটি যতোই তিক্ত হোক তা কষ্ট করে হলেও করে ফেলতে হবে সময় মতোই। উদাহরণ স্বরূপ অনেক কথাই বলা যায়, কিন্তু ধরুন আপনি যাদের সাথে কথা বলতে পছন্দ করুন, গল্প করে মজা পান শুধু তাদেরকেই ফোন করে আলাপ চারিতা চালান। কিন্তু অনেকদিন ফোন করা হয় না এমন কাউকে হঠাৎ করেই আপনার খুব দরকার পরে গেল, তখন তাকে শুধু নিজের দরকারে ফোন করাটা খুবই অশভোনীয় এবং যাকে ফোন করলেন তিনিও যে সবসময় এই অভ্রাসটিকে সাদরে গ্রহণ করবেন তা কিন্তু নয়। আবার ধরুন, আপনার পরিচিত কেউ হাসপাতালে বা রোগাক্রান্ত। তাকে সশরীরে দেখতে যেতে না পারলেও অন্তত ফোন করে খোঁজ নেয়াটাও আপনার একটা সামাজিক সমস্যাকে কমিয়ে দিচ্ছে।

স্বনির্ভরতাঃ এটা খুবই জরূরী। আমরা স্বনির্ভরতা বলতে সাধারণ অর্থনৈতিক নির্ভরতাকেই বুঝে থাকি। কিন্তু নিজের চারপাশের কাজগুলোকে অন্যের উপর নির্ভর করে না করে নিজে নিজে করাটাও স্বনির্ভরতা। অনেককেই দেখা যায় শপিংয়ে যাবে, তার সাথে যাওয়ার জন্যে অন্য কাউকে জোর করেই নিয়ে যাচ্ছে, হয়তো যে সাথে যাচ্ছে সে অনুরোধে ঢেকি গিলেই যাচ্ছে।

কাজের গতিঃ যে কাজটি যে সময়ে শেষ করতে হবে তা ঠিক সময়ে শেষ করতে আমরা সাধারণতই গরিমসি করে থাকি এতে আমরা সাধারণতই পিছিয়ে পরি। কেউ কেউ বলতে পারেন, এভাবেই তো জীবনটা কেটে গেল...ঠিক সময়ে কাজ করলে তো আজ আমি অমুক থাকতাম, তমুক থাকতাম। কিন্তু যদি বুঝতেই পাচ্ছেন তবে এখন থেকেই চেষ্টা করুন না কেন...আর হতাশা নয় অমুক তমুক হওয়ার...যা আছেন সেই অবস্থাটাকেই নিজের মন মতো করে নিন।


পারিবারিক জীবন উপভোগঃ কাজের চাপে অস্থির হয়ে আমরা নিজেদের কাছের মানুষগুলোর প্রতিও অনেক সময় উদাসীন থাকি। কিন্তু কাছের মানুষগুলোর সাথে সময়গুলো ভালো না কাটানোর চেষ্টাকে বলবো আত্নহত্যার সামিল। কেননা কাছের মানুষগুলোই আপনার সুখ, সমৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক। কাজেই তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়াটা, সুন্দর সময় কাটানোর চেষ্টা করা এবং তা বাস্তবে কাজে লাগানো নিজের সুখি জীবনের জন্যেই জরূরী।


শ্রোতা এবং দর্শকের ভুমিকা নিনঃ অনেকেই অনেক কথা বলছে। কিন্তু শ্রোতা বা দর্শক কমই ... যদি সময়গুলো খারাপ যায় তবে অন্যের কথা শুনুন। দেখুন অন্যে কি করছে। তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। তাতে বরং কখনো কখনো আপনার মঙ্গলই হবে। আর সময় যখন নিজের অনুকুলে না থাকে তখন বলার চেয়ে শোনার অভ্যেসটাই কাজে লাগে।


চাহিদার অযৌক্তিকতাঃ আপনার হয়তো কোন কিছু কিনতে ইচ্ছে করছে বা একটা নতুন ডিগ্রী অর্জন করতে ইচ্ছে করছে বা কোন একটা দেশ ভ্রমণ করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তা কতোটা সময়োপযোগী বা তা কতোটুকু আপনার জন্যে এই মুহুর্তে যৌক্তিক তা নিজের কাছেই জিজ্ঞেস করুন । এতে সেই ডিগ্রী নিতে না পারার বা সেই দেশটাতে ভ্রমণ করতে না পারার বা সেই মূল্যবাদ দ্রব্যটি কিনতে না পারার হতাশা , কষ্টটা দূর হয়ে যাবে।

সময়গুলো নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখুন। ভালো থাকুন সর্বদা।







বিশেষ ধন্যবাদ ড. গার্গী দত্ত

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীরা কাঁদে কেন?

সাধারণ স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীরা আহাজারি করে কাঁদে এই বলে যে, এখন তার পোলাপাইনগুলারে দেখবো কে? চলবো কেমন করে? ইত্যাদি নানা ইতং বিতং কথা। তাহলে যদি এমন হতো যে স্বামী স্ত্রীকে অর্থনৈতিক সব রকমের স্বচ্ছলতা দিয়ে গেলেন তবে, স্ত্রীরা কি বলে কাঁদতো?
অর্থনৈতিক নির্ভরতাই কি স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসাকে জিইয়ে রাখে? প্রশ্নটা শুনতে খারাপ লাগতে পারে...কিন্তু এমন অনেক নারীকেই দেখা গেছে যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল তারা স্বামীকে পরিত্যাগ করছে অবলীলায়।সেখানে অনেক ধরনেরই কারণ উঠে আসে তার সপক্ষে। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল স্ত্রীরা কিন্তু স্বামী পরিত্যাগের কথা ভাবলেও তা বাস্তবে রুপ দিতে পারে না, আর্থিক কারণেই।
সেদিন এক বিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষকের স্ত্রী বলছিলেন যদি তার স্বামী হাত পা ভেঙ্গে ঘরেও থাকতো তবুওতো প্রাইভেট পড়িয়ে দিনাতিপাত করতো...এই ধরনের কথা। তাহলে কি স্বামী উপার্জনক্ষম না হলে তার কোন মূল্য নেই?
আরো কথা আছে....আজ না হয় এই পর্যন্তই

শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

নারী নিয়ে প্রবাদের সেকাল-একাল

প্রবাদ/প্রবচন ব্যবহারে অনেকেই বেশ পটু হয়ে থাকেন। আর আগের দিনের মানুষদের কাছে প্রবাদ বিশেষ মেনে চলা নীতির মতো ছিলো।

আগের দিনে নারীকে দেখা হতো হেরেমবাসিনী হিসেবে, শুধুই যুক্তিহীন আবেগ প্রবণ, দূবোর্ধ্য, স্পর্শকাতর হিসেবে। অকল্যাণ যা কিছু হয় সব নারীর দোষে।

আমাদের প্রথাগত সমাজে নারী চরিত্র কেমন তা কয়েকটি প্রবাদের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

ভাই বড় ধন
রক্তের বাধন
যদিও বা পৃথক হয়
তবে, নারীর কারণ

☺ভাই যে কারো বেশ আদরের ধন তা বলাই বাহুল্য কিন্তু ধরেই নেয়া হয় যে বিয়ের পর (স্বাভাবিক সামাজিকতা) ভাই ততোক্ষণই কাছে থাকবে যতোক্ষণ কোন নারী তার উপর কোন নঞর্থক প্রভাব বিস্তার করবে না। কিন্তু সাধারণত এমন ভাবা হয় না যে পৃথক ভাইও কোন কারেণ হতে পারে নারী দ্বারা প্রভাবিত না হয়েই।

নদীতে নদীতে দেখা হয়
কিন্তু বোনে বোনে
দেখা হয় না।

☺সাধারণত নারীদের বিয়ের পর তাদের স্থান হয় স্বামীর ঘরে সেখানে তারা স্বামীর হুকুমের বাইরে কিছু করার ক্ষমতা রাখে না (যদিও বর্তমানে এই অবস্থার উন্নতি হচ্ছে)। আর এর ফলে বোনে বোনে চাইলেও দেখা হয় না। যেটা সাধারণত পুরুষদের বেলায় ঘটে না।

জাতের নারী কালো ভালো
নদীর জল ঘোলা ভালো।

☺সাধারণত আগে (বর্তমানেও অনেক ক্ষেত্রেই) পাত্র পক্ষ নারীর জাত দেখে মুলত বিয়ের সম্বন্ধ আনতো। এক্ষেত্রে নারী কতোটা শিক্ষিত বা কতোটা গুণী তার চেয়ে বেশি তার জাত ভালো কিনা তা দেখা হতো। এক্ষেত্রে হিন্দুদের মধ্যে শুদ্র শ্রেণীরা বেশি অবহেলিত ছিল। বর্তমানে যার উত্তরণ হচ্ছে।

পুরুষ রাগলে হয় বাদশা
নারী রাগলে হয় বেশ্যা।

☺পুরুষরা যদি রেগে ঘর ছাড়ে তবে সে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নারী যেহেতু হেরেমবাসিনী তাই সে রাগ করে ঘর ছাড়লে তার শরীর বিক্রী করে জীবন চালানো ছাড়া আর কোন গতি থাকে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে নারী শিক্ষিত হচ্ছে, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। কাজেই এক সময়ের এই প্রচলিত প্রবাদটি এখন আর গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না।

উচঁ কপালী চিঁড়ল দাঁতী
লম্বা মাথার কেশ
এমন নারী করলে বিয়ে
ঘুরবে নানান দেশ।

☺এখানে নারীর বাহ্যিক রুপকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বিয়ের ক্ষেত্রে। অথচ গুণ থাকলে যে, বাহ্যিক রুপ কোন ব্যাপার না তা বর্তমান সময় গুলোতে অনেকটাই প্রমাণিত।

রান্ধিয়া বারিয়া যেই বা নারী
পতির আগে খায়
সেই নারীর বাড়িতে শীঘগীর
অলক্ষী হামায়।

☺রান্না করার পর ততক্ষণ পর্যন্ত একজন স্ত্রী খেতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার স্বামী খাবে। বর্তমাণ সময়ের অনেক শ্বাশুরীদের মাঝেও এই প্রবণতা দেখা যায় যে, আগে তার পুত্র খাবে তারপর তার পুত্রবধু খাবে। এতে সাধারণতই নারীরা গ্যাস্ট্রিক সহ নানারকমের শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকে। এখন নারী/পুরুষ উভয় কেএষত্রই সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এই অবস্থা অনেকাংশেই হ্রাস পাচ্ছে।

পতি বিনে
গতি নেই

☺এই প্রবচনটিতে প্রকাশ পায় যে, পতি ছাড়া নারী চলতে পারে না। লৈঙ্গিক শ্রমবিভাজন আর জেন্ডার অসম সম্পর্কের মধ্যে নারীকে স্বামীর মুখাপেক্ষী থাকতে হয়। এই অবস্থা সত্যিকার অর্থে এখনও অনেকাংশেই সত্যি। তারপরও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ফলে এই অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।

পতির পায়ে থাকে মতি
তবে তারে বলে সতী

☺বিয়ের আগে নারীর সতীত্বের ধারণা নির্ভরশীল তার শরীরকে বাচিয়েঁ চলার উপর আর বিয়ের পর নারীর সতীত্ব রক্ষার ধরণ পাল্টে তা হয়ে যায় স্বামী নির্ভর। এখানে স্বামী অর্থাৎ পুরুষদের সতীত্বের বিষয়ে কখনোই কিছু শোনা যায় না সাধারণত।

পতি হারা নারী
মাঝি হারা তরী

☺নারী যে নিজের মতো করে জীবন যাপন করার ক্ষমতা নেই, এই ধারণাটাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই প্রবচনটির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। এখানে নারীকে তরী আর পতিকে মাঝির সাথে তুলনা করা হয়েছে। নারীর শিক্ষা বিস্তার, অর্থনৈতিক সামর্থ্যই পারে একমাত্র এসকল ধারণা থেকে তাকে বের করে আনতে।

পথি নারী বিবর্জিতা
☺খুবই দুঃখজনক বিষয় হলো এই প্রবচন দ্বারা চলার পথেও নিজের আপন নারী কুলকেও বিবর্জিত করে চলার ধারণঅকে প্রতিষ্ঠিত করে। যেই নারী আলোর মুখই দেখেনি সে ঠিকমতো পথ চলতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক বিষয়। হেরেমবাসিনী বন্দিনীর পক্ষেতো পথ চলার অভ্যাস/অভিজ্ঞতা কোনটাই থাকার কথা নয়। বর্তমাণ সময়েও অনেক নারীরাই আধুনিক, শিক্ষিত হওয়ার পরও পুরুষের উপর নির্ভর করে পথ চলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এই অব্যবস্থা থেকে নারীকে যেমন বেরিয়ে আসতে হবে, পুরুষদেরও সচেতন হবে নারীকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

পদ্মমুখি ঝি আমার পরের বাড়ি যায়
খেদা নাকি বউ এসে বাটার পান খায়

☺এখানে যদিও পরিষ্কার করে লৈঙ্গিক বিষয়টা উঠে আসে নি...এটা কোন পুরুষ বা নারীর মুখ থেকে আসা তারপরও সমাজের বউ-শ্বাশুড়ীর টানাপোড়েনের মুখরোচক বিষয়ই এর মূখ্য। নিজের মেয়ে যেমনই হোক তার দোষ যেমন মায়েদের চোখে পড়ে না, ঠিক তেমনই পরের মেয়ে যখন পুত্র বধু হিসেবে আসে তখন তার দোষগুলো খুব সহজেই শ্বাশুরীদের চোখে পড়ে। আর শ্বাশুরীদের এই মনোভাব বোঝাতেই সম্ভবত এই প্রবচনটির প্রচলন। এর থেকে আসলে বেরিয়ে আসা এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি। আজকে যেই নারী পুত্রবধু আগামীতে সেই শ্বাশুরী হয়ে একই ভুমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে। এর থেকে সমাধানের পথ খুঁজতে সচেতনতার, মানবিকতার বিকল্প নেই।

ধন্যবাদ।।

উৎসঃ
ছবিঃ ইন্টারনেট
প্রবাদ/প্রবচনঃ মুরুব্বীদের কাছ থেকে এবং সেলিনা হোসনে ও মাসুদুজ্জামান সম্পাদিত জেন্ডার বিশ্বকোষ, ২য় খন্ড প্রথম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারী ২০০৬

মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

"মরদানা" (অবরোধ-বাসিনী:রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন)

এক
স্থানঃ রংপুর জিলা, পায়রা বন্দ গ্রামের জমিদার বাড়ী
সময়ঃ দুপুর ১টা-২টা
[নামাযীরা নামাযের উদ্দেশ্য ওযু করে ফেলেছে। সাহেবজাদী উম্মি ওজু করছে, আলতার মা বদনা হাতে উম্মিকে ওজুর জন্যে পানি ঢেলে দিচ্ছে।হঠাৎ এক কাবুলী মহিলাকে দেখে আলতার মার হাত হতে বদনা পড়ে গেল এবং সে চিৎকার করতে লাগলো।]

আলতার মাঃ আউ আউ! মরদটা কেন আইল!
কাবুলী বেগমঃ হেঁ মরদানা! হাম মরদানা হায়

[উম্মি কাবুলী বেগমের কথা শুনে হাঁপাতে হাঁপাতে ও কাঁপতে কাঁপতে তাঁর চাচী আম্মার কাছে গেলেন]

উম্মিঃ চাচী আম্মা! পায়জামা পরা একটা মেয়ে মানুষ এসেছে
চাচী আম্মাঃ [ব্যস্তভাবে] সে তোমাকে দেখেছে? 
উম্মিঃ [কাঁদো কাঁদো ভাবে] হাঁ!

[অন্য মেয়েরা নামায ভেঙ্গে ব্যস্তভাবে দরজার কপাট দিল]


বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩

প্রিন্সেস, জীন পি স্যাসন; Princess, Jean P Sasson,


১৯৮৩ সালে লেখক জিন পি স্যাসনের সাথে পরিচিত হয় এক সৌদি নারীর যিনি একজন শাহজাদী । তার জীবন এবং লেখকের জানা মতে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এতোদিন ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবে পবিত্র ভুমি হিসেবে যেই ভুমিকে জেনে এসেছি, সেখানে এমন ভয়ংকর, বিভৎস, বিকৃত আচরণের ঘটনার সন্ধান পেয়ে সত্যিই প্রচন্ড ভাবে মর্মাহত হচ্ছি। ঘৃনা জন্মে যাচ্ছে পুরুষদের উপর। এতোদিন জানতাম এসব ঘটনা পাশ্চাত্যের দেশ গুলোতে ঘটে, এরপর দেখি আমাদের দেশেও ঘটছে। "প্রিন্সেস" বইটি থেকে সৌদী আরবের স্থানীয় মানুষগুলোর অন্ধকারের চেহারা দেখে মনে হলো আর সবদেশকে ছাড়িয়ে গেছে বর্বরতায়। এতোযুগ পরেও! অনুবাদটি পড়ে সত্যিই শিউড়ে উঠেছি। আমাদের দেশে ধর্ষনে মেয়েদের পোষাককে দোষ দেয়া হয় কোন কোন ক্ষেত্রে, কিন্তু সৌদি আরবের মতো জায়গাকে আমরা পূণ্যভুমি মনে করি, তেমনি একটি জায়গায় কি বিভৎস, হিংস্র, দানবীয় আচরণ করা হয়, মেয়েদেরকে দমন করতে । এখানকার পুরুষদের যৌনকামনার বিভৎস রূপটি প্রিন্সেস বইটির মাধ্যমে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক আরব শাহজাদীর মুক্তি কামী মানসিকতা নিয়ে লিখা ডায়েরি থেকে জিন পি স্যাসন তুলে এনেছেন এই ভয়াবহ সত্য কাহিনী।


বই নিয়ে কিছু কথা
■ মূল বইয়ের প্রচ্ছদটি বেশ জমকালো সেই তুলনায় অনুবাদটির প্রচ্ছদটি সাদাসিধা হলেও বেশ আকর্ষণীয় ।

■ বোর্ড বাঁধাই করা ১৩ ফর্মার বইটির বাজার মূল্য ৩২৫ থেকে ৩৯০ টাকা হতে পারতো, সেক্ষেত্রে বইটির মূল্য ক্রেতার নাগালের মধ্যে রাখাটাকে সাধুবাদ দিচ্ছি অবশ্য ২০০১ সালে ফর্মা প্রতি কতো করে রাখা হতো আমি জানি না ।

■ প্রকাশক মূল লেখক জিন পি স্যাসন ও অনুবাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পরিচয় তুলে ধরতে পারতেন কভার পেজ-এ ।

■ ১২ ফন্টের ছাপার অক্ষর গুলো সাধারন বয়সী পাঠকদের পাঠে মনোযোগ ধরে রাখার জন্যে যথেষ্ট ।

■ আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর অনুদিত বইটির ঝরঝরে অনুবাদের প্রশংসা করতেই হবে । পাঠের কোথাওই মনে হয়নি বইটি অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে ।

■ বানানে যথেষ্ট যত্নের ছোঁয়া রয়েছে যা একজন পাঠককে পাঠে স্বস্তি দিতে পারে বইটি ।

বইটির বিভিন্ন অংশ থেকে কিছু লাইন এখানে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরলাম ।
►আমার জন্মভূমিতে পুরুষাঙ্গ বিহীন মানুষের কোন গুরুত্ব নেই ।

► সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠে ব্যক্তির বিকাশের সাথে ।

► আমাদের সমাজে নারীর হীন অবস্থানের কারণে ইসলামি বিধান ও রীতিকে দোষারোপ করা ভুল ।... মহানবী মোহাম্মদ (সাঃ) শিক্ষা দিয়েছেন নারীর প্রতি সদয় হতে এবং সুবিচার করতে ।

►পুরুষের মর্যাদার বিকাশ ঘটে নারীর ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগের মধ্য দিয়ে । সেজন্যে তাকে অবশ্যই তার নারীদের ওপর যৌন প্রভুত্ব ও শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখতে হবে...

► নারীর উপর সর্বময় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে প্রেমের কোন সম্পর্ক জড়িত নয় ।এ নিয়ন্ত্রণ আরপ করা হয় পুরুষের মর্যাদাহানির ভয় থেকে ।

► শৈশব থেকে একটি ছেলে শিশুকে শিখানো হয় যে, নারীদের গুরুত্ব খুবই সামান্য, তারা রয়েছে আরাম ও সুবিধার জন্যে ।...তাকে অস্থাবর সম্পত্তি হিসাবেই বিবেচনা করে, অংশীদার হিসেবে নয় ।

►নারীর সাথে ক্রীতদাসের মতো বা সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে পুরুষেরা নিজেদের অসুখী করার পাশাপাশি যেসব নারীর ওপর তারা প্রভুত্ব করছে তাদেরকে অসুখী রেখে উভয়ের জন্যেই প্রেম ও সত্যিকার অংশীদারে পরিণত হওয়াকে অসম্ভব করে তুলেছে ।

►নারীরা কঠোরতার সাথে আপোষ করে তাদের মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকে ।

►আমি একজন নারী, যাকে পুরুষ বিবেচনা করে শৃঙ্খলিত ক্রীতদাসের মতো ।

►পৃথিবীতে এতো দরিদ্রের বসবাস, আর আমরা এতো অপচয় করছি।

►বিজয় জন্ম দেয় ঘৃণার, কারণ পরাজিদরা অসুখী থাকে... (গৌতম বুদ্ধ)

►পাথি ও জীবজন্তু আমার বোনের চাইতে অনেক স্বাধীন ।

►আমার মা শাবককে রক্ষার জন্যে ক্ষিপ্ত বাঘিনীর মতো ছিলেন । তার সাহসের অহংকারে আমার হৃৎপিন্ড বিস্ফারিত হওয়ার মতো হয়েছিল ।

►সৌদি আরবে সৌন্দর্য নারীর বিরাট পণ্য ।

►আমার দেশে মহিলাদের মসজিদে প্রবেশ নিষেধ । যদিও মহানবী (সাঃ) মসজিদে মহিলাদের নামাজ পড়তে নিষেধ করেননি ।
► একটি পাপ যখন গুরুতর হয়, তখন আরেকটি পাপের ঘটনা চাপা পড়ে যায় ।

►ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে এবং ফ্যাশন সচেতনতার কারণে মহিলারা পোশাকের হাজারো ধাঁচের মধ্যেও সৃজনশীরতা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে ।

►একটি বালিকার প্রবেশ আরব পুরুষেরা লক্ষ্য করে না, কিন্তু যখনই সে বোরখা পরে মুখ ঢেকে বের হয় বহু পুরুষ তার দিকে আগ্রহ ভরে তাকায় । পুরুষেরা নিষিদ্ধ মুখের দর্শন লাভের জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠে । সহসা যৌন গুরুত্ব বেড়ে যায় সেই বালিকার । আমরা, আরব মহিলারা মুখ ঢেকেই আরব পুরুষদের কাছে বিপুলভাবে কাঙ্ক্ষিত সামগ্রিতে পরিণত হই ।

►যেহেতু তার একটি স্বপ্ন আছে এবং সে স্বপ্ন পূরণের উপায়ও আছে, সে জন্যে সে প্রাণ খুলে হাসতে পারে ।

►তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো থেকে সৌদি আরবে যে সব মহিলা কাজ করতে আসে তাদেরকে যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করা হয় ।

►অজ্ঞতার কারণে ধর্মের শিক্ষাকেও তারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে ।

►মুসলিম বহির্ভূত যে কোন মহিলাকে তারা বেশ্যা মনে করে ।

►সৌদি আরবে নারী স্বাধীনতার প্রধান প্রতিবন্ধক ধর্মীয় চরমপন্থীরা ।


শাহজাদী লেখককে বলেছিলেন, বিশ্ব যদি আমাদের কান্না শুনতে না পায় তাহলে কিভাবে আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে ?

■ বইটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মূল: জিন পি স্যাসন
অনুবাদ : আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০০১
প্রকাশক: ঐতিহ্য, ঢাকা
মূল্য: ১৭০ টাকা
ISBN: 984-776-077-2
প্রাপ্তিস্থান: সঠিক জানা নেই, তবে
"মধ্যমা", কনকর্ড এম্পোরিয়াম শপিং কমপ্লেক্স এর প্রথম তলায়।
এছাড়া নীলক্ষেত পাওয়া যেতে পারে।


বিশেষ কৃতজ্ঞতা : প্রিয় অলস গল্পকার

তোমার তরে...
২.১৯ দুপুর ৯ পৌষ, ১৪১৮
তোমরা কোথায়? বসে আছি আমি একলা টিএসসিতে!
মাল্টিকালার ক্যাম্পাস আর পৌষের এই শীতে।
রং নিয়ে কি খেলবো একটু? সেই ভাল, তা-ই করি!
খন থেকেই ছেলেরা-মেয়েরা আসছে আর যাচ্ছে
রেখে গেল শুধু কিছু ভাল-লাগা নীল-ওড়না'র মেয়েটা!
সমানী রং ওড়নায় তার সূর্যের মত কাচঁ
রং ছড়িয়েই চলে গেল সে-ছড়িয়ে গেল আলো
জুইফুল-চুলে মেয়েগুলো যেন হিংসায় চমকালো!
মি ও কেমন! 'দেখলেই বুঝি ওভাবে তাকিয়ে থাকে?'
পুতুলের ফুল, সূর্যের তাপ ধমক দেয় আমাকে...

কবিতার প্রতিটা লাইনের প্রথম বর্ণটিতেই কবিতার পুরো শিরোনাম রয়েছে ।

ছবি: প্রিন্সেস, ৮ মে ২০১৪

সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩

ভালো থেকো -হুমায়ুন আজাদ


ভালো থেকো- 
           -হুমায়ুন আজাদ 

ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা।
ভালো থেকো।
ভালো থেকো চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো।
ভালো থেকো কাক, কুহুকের ডাক, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাশিঁ।
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
ভালো থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল,
ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল,
ভালো থেকো নাও, মধুমতি গাও,ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites